বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২৬

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ ইতিহাস ঐতিহ্যের ফেনী

আপডেট:

আলাল উদ্দিন আলাল
রাজনীতিবীদ ও লিখক

আমাদের ফেনী ত্রিপুরার পর্বতমালার রঘুনন্দন পাহাড়ের শেষ অংশের একটি দীপাঞ্চল । পাহাড় থেকে নেমে আসা অসংখ্য খাল ঝর্ণা নদীর পলিতেই সৃষ্টি এই জনপদ । কালের পরিক্রমায় অসংখ্য খালবিল জনগণ তার প্রয়োজনে জমির দখলে মেরে ফেলেছে ।বাংলার স্বাধীন শাসক ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ এর সেনা কর্মকর্তা ছিল বিজয় সিংহ । ফরাসি পরিবায টালিমি অঙ্কিত খরস্রোতা ভোলভো নদী বিজয় সিংহ হত্যা করে । এই নদী কেন্দ্রিক বিখ্যাত আমির সওদাগর ভেলুয়া সুন্দরির পুঁথি রচিত হয়েছিল । চট্টগ্রামে এখনো ভেলুয়ার দীঘি ইতিহাস হয়ে আছে ।ফৌজদার বিজয় সিংহ একজন বুদ্ধধর্ম অবলম্বী মানুষ ছিলেন । তার বাড়ির বর্তমান অবস্থান বিজয় সিং দিঘির পশ্চিম পাড়ে শহীদ আব্দুস সাত্তারদের বাড়ি ।জনশ্রুতি আছে বিজয় সিংহের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী বাড়ির সামনে নদীর পাড়ে বসে মাঝিদের দুঃখের গান শুনতো ( মাঝিরা সবসময় বিষাদের সারি গাইতো ।” বিজয় সিংহের মা তাকে বলেছিল তোমার বউ সারাক্ষণ মাঝিদের গান শুনে , হয় তুমি চাকরি ছেড়ে দাও না হয় বাড়ি ছেড়ে দাও, বিজয় সিংহ রাগান্বিতভাবে মাকে বলে আমি ফৌজদার আমি বাড়িও ছাড়বো না বউও ছাড়বো না তুমি আগামী শুষ্ক মৌসুমে দেখবে ।পরের বছর শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহমান ভোলভোলা নদীর মাঝে বাঁধ দিয়ে দক্ষিণ পশ্চিম উত্তর অঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র নদী হত্যা করে । যা এখন বিজয় সিংহ দিঘি । বিজয় সিংহ দিঘির পাড় এত উচ্চতা হওয়ার কারণ বেড়িবাঁধ দেওয়া হয়ে ছিল । এই নদী হত্যার ফলে উত্তরে এবং দক্ষিনে বিশাল অঞ্চল জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় । যা এখনো বিদ্যমান । আজ থেকে ৭০০ বছর আগে ফেনীতে নদী হত্যা শুরু হলো যা আজও বিদ্যমান । ফেনীর বন্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে । এই পরিকল্পনা মুহুরী কহুয়া পাড়ের জনগণের প্রতিবছরের বন্যার কষ্ট লাগবো হবে আশা করা যায় । প্রথমত বেড়িবাঁধের বাহিরে যারা বসবাস করবে তাদের বাড়ি নির্মাণে নির্দিষ্ট উচ্চতা নির্ধারণ করে দিতে হবে।বাঁধের কারণে দ্রুত মুহুরী কহুয়া এবং সিলোনিয়া পাহাড়ি নদীর পানি কালিদাস পাহালিয়া এবং ফেনী নদীতে এসে মিলিত হবে । আবার ফেনী নদীর পানি খাগড়াছড়ি এবং ভারতের ত্রিপুরার দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পানী দ্রুত চলে আসবে । সেই সাথে বর্ষা মৌসুমে সাগরে নিম্নচাপ থাকে । এত বিশাল পানি মুহুরী প্রজেক্ট হয়ে বঙ্গোপসাগরে যাওয়া সময়ের ব্যাপার ।ইতিমধ্যে কালিদাস পাহালিয়া এবং ফেনী নদীতে ১০ হাজারের ( প্রতিটি পুকুরের আয়তন ৫ একর থেকে ২০ একর পর্যন্ত ) উপর পুকুর নির্মিত হয়েছে । ফেনী নদীর পাশ ছিল প্রায় দেড় কিলোমিটার যা এখন সাধারণ নদীতে পরিণত হয়েছে । পাশাপাশি নদী নাব্যতা হারিয়েছে । এখন প্রশ্ন হল উত্তর পূর্ব অঞ্চলের ( মুহুরী কহুয়ার ) পানি , ফেনী নদীর পানি একসাথে ধারণ করার ক্ষমতা এই নদী দুটির নেই । এখন মুহুরী প্রজেক্ট এর ভিতর থাকা নদীতে অবৈধ হাজার হাজার পুকুর উচ্ছেদ করা সময়ের দাবি । যদি মুহুরী কহুয়া প্রজেক্ট শেষ করার আগে ফেনী এবং কালিদাস পাহালিয়া অবমুক্ত করা না হয় তাহলে ফেনী সদরের মানুষ প্রতিবছর ২৪ এর বন্যার মুখোমুখি হবে ।

বিজ্ঞাপন

সুত্র :ফেইসবুক

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত