মিজানুর রহমান, অক্সফোর্ড
—
মিডিয়ায় সামনে তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, কথাবলার ধরণ, তৃতীয় আরেকটা রাষ্ট্রকে জড়িয়ে ধুরন্ধর কৌশল, বাংলাদেশকে তুলনামূলক একটি ছোট্ট দূর্বল রাষ্ট্র বানিয়ে এবং বাঙালি মেয়েদের নিচু দেখানোর সাথে সাথে মায়াকান্না করা, সাইকোলজিক্যাল ব্লেকমেইল করাই তার সুক্ষ পরিকল্পনার অংশ। সবকিছু মিলিয়ে তার প্রতি করুণা ছাড়া আর কিছুই আসে না। কয়েকদিন আগে শুনলাম পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত এর সাথে কোন এক ব্যাংকের উর্ধ্বতন মহিলা অফিসার— কক্সবাজারের কোন একটি নামকরা হোটেলে,,,,প্রাক্তন উপদেষ্টা হাসান আরিফের ছেলের বউয়ের “লা০০০লা” কাহিনী এখন সমগ্র রাষ্ট্রের আনাচে কানাচে ঘুরপাক খাচ্ছে। চন্দ্র মনি, সূর্য মনি, ঘোমটা পরা আসমান কাঁপানো গুলোর কথা না হয় বাদ ই দিলাম। ড. ইউনুসের ম্যাটিকুল্যাস ডিজাইনের সময়ে একটা উঁচু মাত্রার ম্যাটিকুল্যাস বেশ্যাবৃত্তি শুরু হয়েছে। যেমনটা দেখা গিয়েছিল বিগত সরকারের পতনের শেষের দিকে। পার্টি অফিসে নেতা কর্মীদের চেয়ে সুন্দরীদের ভীড় ছিল বেশি। আঞ্চলিক নেতা কর্মীরা চলাফেরা করতে ভয় পেতেন, যেন কোনো রকম বেয়াদবি না হয়ে পড়ে। কারণ, বলা তো যায় না—কে ওবায়দুল কাদেরে সাহেবের বান্ধবী আর কে হাসান ভাইয়ের বান্ধবী। এই ভয়ে যে, শেষে বাঁচাকুচা পদটা না চলে যায়! দেশ হিসেবে জাতি হিসেবে আমাদের সত্যিই পচন ধরেছে!ধর্মকথা, নীতিকথা কিংবা ধর্ম লেখক যেভাবেই বলুন বা লিখুন না কেন, আমার মনে হয়, আমাদের কাছে ভূল ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সত্য সত্য কী ধ্রুপদী’র বস্ত্র হরণ হয়েছিল? নাকি বস্তবরণ হয়েছিল? হ্যাঁ, বস্ত্রহরণের চেষ্টা হয়েছিল সত্য, কিন্তু হয়নি, হতে পারেনি। সম্ভ্রম বাঁচাতে তাঁর প্রতিবাদী আর্তনাদে— দেবতা, ঐশ্বরিক অদৃশ্য শক্তির ভিত কেঁপে উঠেছিল। তাড়াতাড়ি তাঁকে স্বর্গীয় বস্ত্র পাঠিয়ে বরণ করা হয়েছিল, আবৃতকরা কিংবা ঢেকে দেয়া হয়েছিল। নারীর মর্যাদাকে সর্বোচ্চ জায়গায় উর্নীত করা হয়েছিল। আমি সে সময়ের কথা বলছি, যে সময় নারীসন্তান জন্ম হলে জীবন্ত কবর দেয়া হতো, যে সময় বাল্যবিবাহ, অসম বিবাহ, জাত রক্ষার্থে একজন বৃদ্ধের সাথে একজন কুমারী মেয়েকে বিবাহ বা কন্যাদান করা হতো। শুধু তাই নয়, বৃদ্ধ স্বামীর মৃত্যুর পর হাসিমুখে স্বামীর চিতায় নিজেকে আত্মহুতি দিতে হতো। কথিত আছে, হাসিমুখে সবার চক্ষুসেশন এর মাধ্যমে জ্বলন্ত চিতায় না উঠলে মৃত স্বামীর অমঙ্গল হবে, নরকে জ্বলবে – তাই হাসতে হাসতে চিতায় নিজেকে আত্মহুতি দিতো। কী ভয়ঙ্কর! এখন কি এমন অবস্থা রয়েছে? নারী কী এখনও এতো দূর্বল? বিশেষ করে মেঘনা আলমের মতো মেয়েরা?মেঘনা আলমকে নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। আমার শুধু জিজ্ঞাসা, কোর্ট চত্বরে শত শত সাংবাদিকদের সামনে নিজেকে, ধর্মকে এবং সাথে সাথে দেশকে যেভাবে হেয় পতিপন্ন করেছে তা নারী সমাজের জন্য তথা দেশের জন্য লজ্জাষ্কর। জায়নামাজ প্রদর্শন, সৌদি রাষ্ট্রের অহংকারের প্রতীক খেজুর প্রদর্শন, ধর্মের দোহাই দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, পক্ষান্তরে, ধর্মকে ব্যবহার করে, ধর্মীয় লেবাস প্রদর্শন পূর্বক নিজের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কোন কসূর ই ছাড়েনি এই মেঘনা আলম। তার কথাগুলো অত্যন্ত দক্ষ এবং কোন এক কুরুচি সম্পন্ন ব্যক্তি কতৃক লিখিত। সে (মেঘনা আলম) শুধু প্রচুর রিহার্সেলে মাধ্যমে স্ক্রিপ্টটি পড়েছে- নিজের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য, যা ছিল সম্পূর্ণ অন্যায়, অন্যকে বাগে আনার অপচেষ্টা মাত্র। নারী সমাজকে এক হাস্যরসের বস্তুতে পরিনত করেছে, দেশকে ছোট করেছে। সেখানেই আমার যত জিজ্ঞাসা।
দেশ হিসেবে জাতি হিসেবে আমাদের সত্যিই পচন ধরেছে।
আপডেট:

