আমিনুল ইসলাম,কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
শখের বসে বিরতিহীন দৌড়ে এবার দেশ ছাড়িয়ে চায়নাতে পাড়ি জমিয়েছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার উদ্যমী তরুণ উমর ফারুক। প্রথমবার শখের বসে কটিয়াদী সরকারি কলেজ থেকে বিরতিহীন ২০ কিলোমিটার পথ দৌড়ে কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ পর্যন্ত গিয়ে থামেন। এরপর থেকেই স্বপ্ন দেখেন ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার। তার দৌড়ের সাথে সাথে ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন কেবল গন্তব্যের দিকে ছুটতে থাকে।অবশেষে দেশ ছাড়িয়ে স্বপ্নের ম্যারাথনে অংশ নিতে চায়নাতে পাড়ি জমিয়েছেন উমর ফারুক। উমর ফারুকের আনুষ্ঠানিক যাত্রাটা শুরু হয় ২০১৯ সাল থেকে। সেবার গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিতব্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাফ ম্যারাথনে ৫০০ পেশাদার অপেশাদার দৌড়বিদদের সঙ্গে লড়াই করে ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করেন। নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টায় বিভোর থাকা উমর ফারুকের চোখ ছিলো দেশের উচ্চ পর্যায়ের ম্যারাথন দৌড়ে নিজেকে পরিচিত করানো। তিনি থেমে থাকেননি, ২০২০ সালে গ্ল্যাক্সোস ডি ঢাকা হাফ ম্যারাথনে ১৯ দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠ্যেয় প্রতিযোগিতার ২২০০ পেশাদার দৌড়বিদের সাথে অংশগ্রহণ করে ৫ম স্থান অধিকার করে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। দেশের উচ্চ পর্যায়ের ম্যারাথন ছাড়াও একাধিকবার বিভিন্ন ম্যারাথনে দৌড়ে জিতেছেন অসংখ্য পুরস্কার। সেই উমর ফারুক এবার নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে ছুটেছেন এশিয়ার আরেক প্রান্তের দেশ চায়নাতে। পরিশ্রমী দৌড়বিদ উমর ফারুক খোলাকাগজকে জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি দৌড়ে যথেষ্ট পারদর্শী ছিলেন। স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের দৌড়ে অংশ নিয়ে অসংখ্যবার তিনি পুরস্কার জিতেছেন৷ লক্ষ্য একটাই ছিলো দেশের বাইরের বড় পর্যায়ের ম্যারাথনে অংশ নিয়ে নিজের স্বপ্নপূরণ। তবে যাত্রাটা অনেকটাই কঠিন ছিলো তার জন্য। একই এলাকার চাকুরিজীবী বড় ভাই আবুল বাশারের অনুপ্রেরণা ও বিভিন্ন দিকনির্দেশনায় নানা সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি। উমর ফারুক কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের বৈরাগীরচর এলাকার আনোয়ারুল হক ও নাসরিন আক্তার দম্পতির সন্তান। পাকুন্দিয়ার হাজী জাফর আলী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। এরপর থেকেই ম্যারাথন অর্থাৎ বড় প্রতিযোগিতায় নিজেকে মেলে ধরতে ব্যাকুল হয়ে পড়েন তিনি।
উল্লেখ্য, চায়নার শিমেনে অনুষ্ঠিত হাফ ম্যারাথনে অংশ নিতে নিবন্ধনের পর বৃহস্পতিবার ( ১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশ ছেড়েছেন তিনি। এসময় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন উমর ফারুক।

