বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৯, ২০২৬

প্রকাশিত সংবাদটি মিথ্যা বানোয়াট — আলাউদ্দিন নাসিম চৌধুরী

আপডেট:

‘আমলা থেকে এমপি হাজার কোটি টাকার মালিক’ প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক।

—————★★—————
দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকায় গত ৪ জুলাই ‘আমলা থেকে এমপি হাজার কোটি টাকার মালিক’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেছেন, প্রকাশিত সংবাদটি অসত্য এবং কোনো মহলের প্ররোচনায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছে। আমি ছাত্রজীবনে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি (১৯৮৪-৮৬) ও ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলাম। ছাত্রজীবন শেষ করে বিসিএস পাস করে সিভিল প্রশাসনে যোগদান করি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলাম। এরপর ২০০১ সাল থেকে বিরোধী দলীয় নেতার এপিএস হিসেবে যোগদান করি। ২০০৭-২০০৮ সালে বাংলাদেশের অনেক রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি চরিত্রহননের জন্য ১/১১ সরকার তথাকথিত দুর্নীতিবাজের তালিকায় আমার নামও প্রকাশ করলে তার প্রতিবাদে এবং নৈতিক কারণে ২০০৮ সালে সরকারের উপসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করি। বাংলাদেশে নৈতিক কারণে মর্যাদাপূর্ণ এমন চাকরি থেকে পদত্যাগের ঘটনা দ্বিতীয়টি নেই। পদত্যাগপত্রে চ্যালেঞ্জ দিয়ে দাবি করি যে, আমি জীবনে অনৈতিকভাবে ১ পয়সাও অর্জন করিনি এবং অদ্যাবধি আমি তা বিশ্বাস করি। চাকরি থেকে পদত্যাগের পর একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমার নতুন কর্মজীবন শুরু করি এবং গত ১৬ বছর আমি নিয়মিত কর প্রদান এবং নিয়মিত সব হিসাব-নিকাশ দাখিল করেছি। আমলা হিসেবে নয়, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমার অর্জিত সম্পদ প্রদর্শন করেছি। যা হলফনামায়ও দাখিল করেছি। চাকরি ছেড়ে ব্যবসা করার অধিকার এ দেশের একজন নাগরিক হিসেবে অবশ্যই আমার রয়েছে। আমি গত ১৬ বছর সরকার বা দলের কোনো পর্যায়ের কোনো অবস্থানে ছিলাম না, যা থেকে অনিয়ম বা দুর্নীতি করার সুযোগ আছে। চাকরি থেকে পদত্যাগের পর আমি অনেকটা নিভৃত জীবনযাপন করেছি এবং নিজের কাজ করেছি। প্রতিবেদনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের পরিবার এ দেশে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সফল পৃষ্ঠপোষক সেই পাকিস্তান ও ব্রিটিশ আমল থেকে। ঢাকার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ আমাদের পরিবারের করা। ফেনীর সাধারণ মানুষের জন্য কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে পেরে আমি গর্বিত। এ নিয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচারের সুযোগ নেই। প্রতিবেদনের একটি স্থানে আমার মেয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সে কানাডায় বসবাস করে। আমার মেয়ে সেই দেশে পড়াশোনা শেষ করে কানাডার একজন অ্যাটর্নি হিসেবে আইন পেশায় সম্পৃক্ত। উন্নত বিশ্বে অ্যাটর্নিদের কাজ, আয় ও অবস্থান সম্পর্কে সবাই অবগত আছেন। তারপরও তার তেমন কোনো সম্পদ আছে বলে আমার জানা নেই। কারণ সে আমাদের বলে আমাদের সমুদয় সম্পদ জনকল্যাণে দান করত। তার প্রয়োজন নেই। সে তার নিজের আয়েই চলতে পারবে।
প্রতিবেদনে ওয়ান ইলেভেনের সময়ে আমার বিরুদ্ধে একটি মামলার কথা বলা আছে। আমি তখনকার বিরোধী দলের নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এপিএস ছিলাম, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার ছিলাম। নেত্রী আটকের পর আমাকে এবং আমার পরিবারকে তখন হয়রানি করা হয়েছে বিভিন্নভাবে। তারা মিথ্যা মামলা করেও কোনো কিছু পায়নি আমার বিরুদ্ধে। ওয়ান ইলেভেন সরকারের হয়রানি রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে সবাই অবগত রয়েছেন।প্রতিবেদনে আমার স্ত্রী খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জাহানারা আরজু ও আমার মরহুম শ্বশুরকে অকারণে টেনে আনা হয়েছে। যে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আমার শ্বশুর। আমাদের বিয়ের ৫ বছর আগে ১৯৮৮ সালে তিনি ও তার সহকর্মীরা এ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বাবার উত্তরাধিকার হিসেবে আমার স্ত্রী এ কোম্পানির পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান। এ নিয়ে মিথ্যা প্রচারের সুযোগ নেই। সবশেষ বলতে চাই, গত ১৬ বছর আমি কোনো সরকারি পদ, পদবীতে ছিলাম না। সম্পূর্ণরূপে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে ছিলাম। এমনকি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলাম না। চট্টগ্রাম বিভাগে কোনো দলীয় পদ কাউকে দেওয়ার কোনো অবকাশ ও সুযোগ আমার ছিল না। কমিশন নেওয়ার মতোও কোনো পদ ছিল না। ব্যবসার বাইরে কোনো কিছুর একটি প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবে না। মনগড়া বক্তব্য আমার সুনামহানির জন্য বিএনপি-জামায়াত দীর্ঘদিন থেকে করে আসছে। আর নির্বাচিত হওয়ার পর আমার নির্বাচনি এলাকায় জনকল্যাণে নেওয়া কিছু কঠোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও ফেনী এবং মুহুরী নদী রক্ষায় বালুমহাল ইজারা বন্ধসহ কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপে কিছু স্বার্থান্বেষী আমার ওপর চরমভাবে সংক্ষুব্ধ বলে জনশ্রুতি আছে। এই প্রচারণা তারই অংশ বলেই আমি মনে করি। আমি সততার শপথ নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেছি। আশা এবং বিশ্বাস আমি এ শপথের মর্যাদা রক্ষা করে চলব জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাকে নিয়েও লেখা হয়েছে। শুধু আমার পরিবারে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত শহিদ মুক্তিযোদ্ধাসহ একাধিক শহিদ মুক্তিযোদ্ধা এবং ১০ জনেরও অধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের পুরো সময় আমরা ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার মতাই থানার কৃষ্ণপুর কলোনিতে মানবেতর জীবনযাপন করেছি। আমার অতীত কমকাণ্ড এবং সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকে আমার কাজকর্মের ওপর আপনাদের মূল্যায়ন ও মূল্যবান পরামর্শ জনকল্যাণে আমার কাজকে আরও সহজ করবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত