২০০৭ সালে তত্ববধায়ক সরকারের সময় একটি কলাম লিখেছিলাম – ’জাতীয় পরিচয় পত্র’ নিয়ে। লেখাটি প্রথম আলো তাদের উপ-সম্পাদকীয়তে প্রকাশ করেছিলো খুব গুরুত্ব দিয়ে। বর্তমানে দেশে যে জাতীয় পরিচয় পত্র রয়েছে আমার প্রস্তাবনাটি এরচেও অনেক বেশী সমৃদ্ধ ছিলো। কিন্তু দেশীয় ’মাথা মোটা সরকার’ তাদের মতো করেই কাজটা শেষ করেছে – যাক, তবুও তো কিছুটা হয়েছে। এটাকে আরও বেশী সমৃদ্ধ করার সুযোগ এখনও রয়েছে। আজ যে বিষয়টি নিয়ে লিখতে চাচ্ছিলাম সেটা হচ্ছে দেশের দরিদ্র মানুষকে সরকার থেকে আর্থিক সহায়তা দেয়া নিয়ে। বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সময় দেখেছি কোভিডের সময় অনেককেই অর্থ সাহায্য দেয়া হয়েছে, আবার এও দেখেছি হাসিনা জনগণের টাকা দিয়ে বাড়ী বানিয়ে নিজের নামে চালিয়ে দিয়ে কিছু মানুষকে উপহার দিয়েছে!কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি কিভাবে গরীব চিনবেন?শুনেছি, এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানরা তার এলাকার গরীব নির্ধারণ করে দেয়। আবার এটাও জেনেছি স্থানীয় আওয়ামী লীগেরাও পার্সেন্টেজ এর বিনিময়ে ’গরীবানা সার্টিফিকেট’ও প্রদান করেছে – গরীব নির্ধারণের জন্য। সত্যি বলতে কি এতে কিন্তু সত্যিকারের গরীব জনসাধারণ যথাযথভাবে আর্থিক অনুদানটুকু ঠিকঠাকভাবে পেয়ে উঠে না। আবার অসংখ্য ধনীও নিজেকে গরীব দেখিয়ে ঐ টাকা মেরে খেয়ে দেয় – এমন রিপোর্টও অভাব ছিলো না।আসলে আমাদের দেশে কোন সুন্দর সিস্টেম নেই, নেই প্রপার আইন।আপনি কিভাবে গরীব চিনবেন?নাহ, চেনা সম্ভব নয়; আপনার বাসায় যে কাজ করে অথবা যে দিন-মজুর দেয় সে গরীব কোন সন্দেহ নেই; কিন্তু এভাবে কতজনকে নির্ধারণ করা সম্ভব? বাদ দিন। তারচে বলুন তো, বাংলাদেশ কত জন মানুষ ট্যাক্স রিটার্ণ দাখিল করে?উত্তর টা হচ্ছে মোটে ১ শতাংশ মানুষ ট্যাক্স রিটার্ণ দাখিল করে।বাংলাদেশে আয়কর দেন দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ মানুষ। এবং দেশে টিআইএন নম্বরধারী ব্যক্তির সংখ্যা ৪০ লাখের কিছু বেশি!ভাবতে পারেন?১৭ কোটি মানুষের একটা দেশে মাত্র ৪০ লাখ মানুষ এর টিআইএন নাম্বার রয়েছে!এই দেশকে আপনি কিভাবে সামনে টেনে নিবেন?যে দেশে মাত্র ১% মানুষ ট্যাক্স দেয়, সে দেশকে আপনি কিভাবে উন্নত দেশের কাতারে নিবেন?বিষয়টি নিয়ে কতজন ভেবেছে – আমার ধারণা নেই; সরকার শুধুমাত্র নিজেদের আয় বাড়ানোর জন্য প্রচারণা করে, আয়কর মেলা করে।কিন্তু বাস্তবে এটা কখনওই সফল হয়নি।এবং কেন সফল হয়নি, সেটা নিয়েও এনবিআর কর্তৃপক্ষ কোনদিনও গবেষনা করেছে বলে আমার মনে হয়নি; আর যদি করেও থাকে, তাহলে সেটার গবেষকগণও রিয়েলিটির বাইরে গিয়ে গবেষনা করেছে।অথচ, সামান্য একটু কাজ করলেই দেশের ৭০% মানুষকে ট্যাক্সের আওতায় নিয়ে আসা যায় – যা খুবই সহজ একটি কাজ।অর্থাৎ আমরা চাইলেই কমছে কম ১২ কোটি মানুষকে ইনকাম ট্যাক্সের আওতায় নিয়ে আসতে পারি।প্রথমে জানতে হবে, কেন মানুষ ট্যাক্স দেয় না?
সহজ উত্তর হচ্ছে, যে-কেউ রিটার্ণ দিতে চাইলেই তাকে মিনিমান রিটার্ন জমা দিতে হবে ২ হাজার টাকা!তাহলে কেন মানুষ ট্যাক্স রিটার্ণ দাখিল করতে যাবে?
এবং, ঐ ২ হাজার টাকা ট্যাক্স রিটার্ণ দিতে গেলে উকিলকে (ট্যাক্স প্রিপেয়ারার) দিতে হবে আরও কম পক্ষে ৫ হাজার টাকা! সুতরাং কোন পাগল ট্যাক্স দিতে যাবে?কার ঠেকা পরেছে?সুতরাং মানুষ ট্যাক্স রিটার্ন দিতে আগ্রহী হয় না।অথচ দেখুন তো, বিষয়টা যদি এমন করা যায়এনবিআর একটি সহজ ওয়েব পোর্টাল তৈরী করে দিলো। অনলাইনে ব্রাউজার জানা এবং টুকটাক ডাটা এনট্রি জানে এমন যে-কেউ অনলাইনে একটা সহজ ট্রেনিং নিয়ে এনবিআর থেকে লাইসেন্স নিয়ে নিজেকে ’ট্যাক্স প্রেয়ারার’ হিসাবে ঘোষনা দিয়ে তার কমপিউটারের দোকান থেকে ট্যাক্স দেয়ার সার্ভিস চালু করলো।এবং প্রতিটি কমপিউটারের দোকানীই চাবে এমন সার্ভিস চালু করতে। এবার ঐ সহজ সফটওয়ার দিয়ে অতি সামান্য কিছু তথ্য দিয়ে মাত্র ১০০ টাকার সার্ভিস চার্য এর মাধ্যমে ০ (জিরো) ট্যাক্স রিটার্ণ দেবার সুযোগ করে দেয়া যায় – তাহলে কেমন হবে?এছাড়া যে-কেউ নিজে নিজেই তার ট্যাক্স রিটার্ণ জমা করতে পারবে!সংগে শুধুমাত্র একটি ঘোষনা দেয়া হবে যে, সরকার প্রতি বছর যাদের (পরিবারের) আয় বছরে মাত্র ১ লাখ টাকা তাদেরকে ৫ হাজার টাকা ট্যাক্স রিফান্ড দেয়া হবে। এবার সরকার ঐ এক লাখ টাকা আয় দেখাতে ৬ হাজার টাকা ট্যাক্স নিবে। তার মানে সরকার ১ হাজার টাকা করে প্রফিট করতে পারবে এবং দেশে কম করে হলেও ৫ কোটি নতুন ট্যাক্স রিটার্ণ দেয়া নাগরিক যুক্ত হবে!সেই সংগে ব্যাংকিং খাতেও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে; মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখবে এবং আর্থিক খাতগুলো ঘুরে দাঁড়াবে।দেশের প্রতিটি মানুষ চায় তাদের সব টাকা ’সাদা টাকা’ থাকুক। কেউ কালো টাকা চায় না।এবং সরকার প্রতি বছরই যারা কোন আয় করে না, বা মিনিমাম আয় (একটি স্লট করে দেয়া হবে) করে তাদের চিকিৎসা সুযোগ দিবে এমন একটি ঘোষনা দিলে দেখা যাবে বাংলাদেশের ১৪ কোটি মানুষ ট্যাক্স দেবার জন্য তৈরী হয়ে প্রতিযোগীতায় নামবে।অর্থনীতি মাত্র ১ বছরে কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবে – তা আপনি ভাবতেও পারবেন না।এবং আপনি ট্যাক্স রিটার্ন ডকিউমেন্টস দেখেই নির্ধারণ করতে পারবেন বাংলাদেশে আসলেই দরিদ্র কারা?এমন করে আমরা কেন ভাবি না?ভাবি না এই জন্য যে, এতে করে দেশটা উন্নত হয়ে যাবে!না কি এজন্য যে, দেশের কেউ এসব বুঝে না?
ফেইসবুক থেকে

