বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

জীবনের শেষ মহুত্বগুলে এলোমেলো শিক্ষা বিস্তারের নক্ষত্রের

আপডেট:

আবদুল মান্নান
———————————————————————-
লক্ষ্মীপুর জেলার কমল নগর থানায় ১৪/০৯/১৯৬০ইং এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন জনাব তাজল হক। ১লা ফেব্রুয়ারি ১৯৮১ইং থেকে ১৩/০৯/২০২০ ইং পর্যন্ত একটানা অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থেকে আমাদের তিন প্রজন্মের অত্যান্ত জনপ্রিয় শিক্ষক জনাব তাজল হক ( হক স্যার) অবসরের পরে ঢাকা শহরে একরকম অসহায় জীবন যাপন করছেন, স্যারের সাথে আমার প্রায়স কথা হয়, প্রসঙ্গক্রমে জানতে চাইলাম প্রশ্নঃ কেমন আছেন আপনি?
জবাবঃ আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ পাক অনেক ভালো রেখেছে, বুঝই তো বয়স হয়েছে বিভিন্ন রকমের রোগ শোকে আছি, তারপরও সব মিলিয়ে শোকর আলহামদুলিল্লাহ।
প্রশ্নঃ স্যার কেমন লাগে কাছারি বাজার এর মায়া ছেড়ে এ ইট পাথরের নগরীতে? জবাবঃ এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে স্যার বললেন ভালো লাগে না রে বাবা, তোমাদের স্নেহ ভালোবাসা, হাজারো স্মৃতি সবি তো কাছারি বাজারের মাটিতে, এলাকার মানুষের স্নেহ ভালোবাসা- মমতা, কাছারি বাজারের হাওয়া-পানি, মনোরম পরিবেশ অনেক বেশী মিস করছি।
প্রশ্নঃ তাহলে এলাকা ছাড়লেন কেন জবাবঃ আমার তো থাকার জায়গা নেই, যখন শিক্ষকতা করেছিলাম তখন ত একসময় প্রফেসর মোহাম্মদ উল্যাহ সাহেবের ঘরে গৃহ শিক্ষক হিসেবে থেকেছি, পরবর্তী সময়ে এলাকার সকলের সহায়তায় স্কুলে থেকেছি, একটা সময়ে পরিবার নিয়ে ফেণী তে বাসা ভাড়া করে থেকেছি, তোমরা আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভালোভাবে জান সাংসারিক জীবনে আমার উপর কি বিপর্যয় নেমে এসেছিল? তারপর আবার স্কুলে অবস্থান করি, কিন্তু রিটারমেন্ট এর পরে স্কুলে ত আমাকে থাকতে দেবে না, আমিও বা কিসের দাবিতে থাকবো? প্রশ্নঃ লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের পৈত্রিক ভিটাতে আপনি বাড়ি করতে পারতেন? জবাবঃ আবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন আমার কোন পৈত্রিক সম্পত্তি, ভিটামাটি কিছুই নাই, শুনে একটু আশ্চর্য হলাম!
প্রশ্নঃ আমরা শুনেছি অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় এর পাশে আপনি একখন্ড জমিন কিনেছিলেন সেটা কি ঠিক?
জবাবঃ স্কুল মাঠের উত্তর পাশের বাউন্ডারির সাথে আমার ১৪ ডিসেমেল জায়গা আছে, এটাই একমাত্র আমার ভূসম্পত্তি। প্রশ্নঃ সেখানে কেন বাড়ি করছেন না? আপনার অসংখ্য অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষী প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা মনে প্রাণে চায় যেন জীবনের বাকিটা সময় আপনি এ এলাকাতে কাটিয়ে দিন।জবাবঃ মরহুম প্রফেসর মোহাম্মদ উল্যাহ সাহেব আমাকে বলেছিলেন স্কুলের বাউন্ডারির তে একটা গেট করে স্কুল মাঠে আপনি চলাচল করতে পারবেন কোন সমস্যা হবেনা। ওই সময়টাতে আমি ৪০,০০০ ইট ও কিনেছিলাম, পরবর্তীকালে প্রফেসর সাহেবও মারা গেলেন, উনার মৃত্যুর পর পরবর্তী পরিচালনা পরিষদের অনেকের কাছে আবেদন করেও কোন সদুত্তর পাইনি, নাম মাত্র মূল্যে ইট গুলোও বিক্রি করে দিতে হয়েছে আমাকে, তদুপরি আমার সন্তানদের পড়াশোনা ও চাকরি-বাকরি নিয়ে ব্যস্ততায় চলে এসেছি ঢাকায়, তাছাড়া আমি স্কুল থেকে অবসরও নিয়েছি। প্রশ্নঃ আপনার ছাত্ররাই ত এখন স্কুল পরিচালনা করছে তাদের প্রতি আপনার আশা এবং প্রত্যাশা কি?
জবাবঃ আমার একটাই আশা এবং প্রত্যাশা আমি আমার ক্রয় কৃত সম্পত্তিতে একটি বাড়ি করে বাকী জীবন তোমাদের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই।
দয়া করে আপনার মূল্যবান মতামত দিন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত