ইতিহাস কখনো কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না- ইতিহাস রচিত হয় প্রত্যাবর্তনের সাহসে, মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশায়, এবং গণরায়ের অবিচল শক্তিতে। যখন একটি জাতি ব্যালটের মাধ্যমে নতুন দিকনির্দেশনা দেয়, তখন সেটি কেবল সরকার পরিবর্তন নয়; সেটি সময়ের স্রোতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে দীর্ঘ ১৯ বছর পর সরকার গঠন করলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শপথের এই মুহূর্ত কেবল আনুষ্ঠানিকতার নয়- এটি রাষ্ট্রনায়কত্বের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার অঙ্গীকার। বিজয় এখানে উল্লাসের চেয়ে বেশি দায়িত্বের প্রতীক; কারণ জনগণের রায় মানেই জবাবদিহিতা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি।জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাঁকে জানাই গভীর অভিনন্দন ও আন্তরিক শুভেচ্ছা। এ দায়িত্ব কেবল একটি সাংবিধানিক অবস্থান নয়- এটি একটি জাতির স্বপ্নের প্রতিনিধিত্ব, এক পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সাহসী নেতৃত্ব প্রদানের প্রত্যাশা, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল, মর্যাদাপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণের অঙ্গীকার। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া–এর রাজনৈতিক দর্শন ও নেতৃত্বের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এই সরকার গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করবে, আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে মানুষের কল্যাণমুখী রূপে পুনর্গঠন করবে- এমন প্রত্যাশাই আজ দেশবাসীর হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত।
বিশেষভাবে ফেনীবাসীর জন্য এটি এক ঐতিহাসিক গর্বের অধ্যায়। দীর্ঘ সময় পর ফেনী থেকে জনাব আবদুল আউয়াল মিন্টু মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এটি কেবল ব্যক্তিগত বা দলীয় অর্জন নয়; এটি আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতীক, উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন, এবং স্থানীয় জনমানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন।নতুন সরকার মানেই নতুন প্রত্যাশা। নতুন অঙ্গীকার মানেই নতুন দায়িত্ব। রাষ্ট্র হোক মানবিকতার আশ্রয়স্থল, রাজনীতি হোক মূল্যবোধনির্ভর, উন্নয়ন হোক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই। গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত হোক, ন্যায়বিচার হোক সকলের জন্য সমান, এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাক মর্যাদা, স্থিতি ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্তে।সবার জন্য রইলো আন্তরিক শুভেচ্ছা ও দোয়া।
আলাল উদ্দিন আলাল
সদস্য সচিব
ফেনী জেলা বিএনপি

