মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২৬

ফেনীতে আদালত এর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে, বানিজ্য মেলা নির্মাণ কাজ

আপডেট:

 

ফেনী শহরে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বাণিজ্য নেই এর মধ্যে আবার বানিজ্য মেলা কি প্রয়োজন ? ফেনীতে আবারো আদালত এর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠে বানিজ্য মেলা নির্মাণের কাজ। আগামি ১ ফেব্রুয়ারী উদ্ভোধন এর কথা মাথায় রেখে দ্রুত এগিয়ে চলছে চেম্বার অব কমার্স ফেনীর ব্যানারে বানিজ্য মেলার স্টল নির্মাণের কাজ। ফেনী পৌর শহরের শহীদ শহিদুল্লাহ কায়সার সড়কের পাশে অবস্থিত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)র ওয়াপদা মাঠ মৌখিক অনুমতি্ নিয়ে দিনরাত পুরোদমে মেলার কাজ করছে মুক্তিযোদ্ধা হেলথ্ সার্ভিসেস ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন

জানাযায়,পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠটি নিয়ে ২০২০ সালে আদালতে একটি দায়ের করা হয়, মামলা নাম্বার ৫৮৫/ ২০২০। আদালত সে সময় ঐ মাঠে উভয় পক্ষের আপোষ মিমিংসা না হওয়া পর্যন্ত সকল মেলার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন আদালত। যা এখনো সমাধান হয়নি। তারপর ও আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর কর্মকর্তারা তৃতীয় বার মেলা করার মৌখিক অনুমতি প্রদান করে যা সম্পূর্ণ ভাবে অবৈধ। প্রথম বার জোহরা এন্ড জানদানি নামক প্রতিষ্ঠানকে আয়োজেন অনুমতি দিলে ও পরে দুবার মৌখিক ভাবে চুক্তি হয় মুক্তিযোদ্ধা হেলথ্ সার্ভিসেস ফাউন্ডেশন নামের প্রতিষ্ঠানের সাথে। তাদের আবার মেলার করার বৈধতা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন ? মেলার আয়োজকদের চুক্তি ও নানা অনিয়ম দেখিয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে ২০২১/২২ সালে পরপর দুটি অভিযোগ দায়ের করেন বাংলাদেশ ট্রেড ফেয়ার এসোসিয়েশনের যুগ্ন সাঃ সম্পাদক ও এস আর টি সি এল কর্ণধার সৈয়দুর রহমান নামের আরেক মেলা ব্যবসায়ী।বিয়ষটির তদন্ত এখনো চলমান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ট্রেড ফেয়ার এসোসিয়েশনের যুগ্ন সাঃ সম্পাদক সৈয়দুর রহমানের সাথে চুক্তি বিরোধের একটি মামলা হাইকোর্টে চলমান বিষয়টি দিনের আলোর মত পরিস্কার। সৈয়দুর রহমানের করা মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ার মাঝে আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে পরপর তৃতীয় বার রাজস্ব বিহীন বে আইনি ভাবে মেলার জন্য মাঠ ভাড়ার বরাদ্দ দিল পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ আদালত বিবাদী পক্ষ তথা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাদীর সাথে নিষ্পত্তি করা জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন নিষ্পত্তি না করার কারনে আদালত তাদের কারন দর্শানোর রুল জারী করেন।

বিজ্ঞাপন

আদালতে কোন ধরনের জবাব না দিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আবারো মাঠ বরাদ্দ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনী কর্তৃপক্ষ। মূলত ফরহাদ খলিল গং তাদের মুক্তিযোদ্ধা হেলথ্ সার্ভিসেস ফাউন্ডেশন নামক একটি প্রতিষ্ঠান পরপর কয়েক বছর শিল্প বানিজ্য মেলার আয়োজন করছে যা মেলা আইন পরিপন্থী। তাদের মেলা আয়োজন করা যে নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজ তা নিয়ে বার বার প্রশ্ন তুলেছেন মেলা আয়োজন সংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠান শুধু তাই নয় বাংলাদেশ ট্রেড ফেয়ার এসোসিয়েশনের সদস্য ও মন্ত্রণালয়ের লিস্টেড সংগঠন ব্যতীত কোন প্রতিষ্ঠানের সদস্যেদের মেলা করার অনুমতি নেই, যা বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের মেলা সংক্রান্ত পরিপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। মুক্তিযোদ্ধা হেলথ্ সার্ভিসেস কোন মেলা সংগঠনের সদস্য নয়। তারা ভূয়া কাগজ তৈরী করে প্রশাসনকে বোকা বানিয়ে ধোকা দিয়ে গত কয়েক বছর ধরে এধরণের দুনম্বরি কর্মযজ্ঞে লিপ্ত থাকার দাবি করছেন প্রতিষ্ঠান গুলো। ধারনা করা হয় পাউবোর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতাবশালী ব্যাক্তিকে টাকার বিনিময়ে হাত করে মেলা আয়োজনে করে তারা।

এ বিষয়ে মামলার বাদী সৈয়দুর রহমান বলেন,আমার বৈধ প্রতিষ্ঠানে সাথে একটি চুক্তি ছিল। তারা কি ভাবে আমার প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে বার বার কিছু অবৈধ প্রতিষ্ঠান কে মেলা করার সুযোগ দেয়, পাউবো মাঠ নিয়ে আমার মামলাটি এখনো চলমান। আমি গত ২৪/১১/২২ তারিখে আইজিপি বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছি,(১৫০৭) আইজিপি মহোদয় তা আমলে নিয়ে ১১/১২/২২ তারিখে এআইজিকে তদন্ত দিয়েছে, সম্ভবত একটি কপি ফেনী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমি ভালো একটি ফলাফলের আশায় আছি। এ ছাড়া ও সচিব মহোদয় বরাবর দুইটি অভিযোগ দায়ের করেছি।

প্রসঙ্গতঃ গত দু’বছর ২০২১/২২ সৈয়দুর রহমানে প্রতিষ্ঠান এস আর টি সি এল সাথে মামলা চলমান অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠে দুই বার একটি ব্যানারে মেলা আয়োজন করা হয়। দুই বারই আয়োজন করেছিল প্রথম বার চেম্বার অ্যান্ড কমার্স, পরেবার পুনাক আরব এবার আবার চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের ব্যানারে। প্রথম বার চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের ব্যানারে জোহরা এন্ড জামদানীর পিন্টু-পাপ্পু-আলমরা আয়োজন করে পরে পুনাকের ব্যানারে আয়োজন করে ফরহাদ খলিলদের মুক্তিযোদ্ধা হেলথ্ সার্ভিসেস। এ বছর আবার চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের ব্যানারে মেলার আয়োজন করছে ফরহাদ খলিলদের মুক্তিযোদ্ধা হেলথ্ সার্ভিসেস। এ ছাড়াও সৈয়দুর রহমানে প্রতিষ্ঠান এস আর টি সি এল সাথে চুক্তি করার পর তাকে বিনা নোটিশে বাদ দিয়ে কাজ দেয় লাইসেন্স বিহীন প্রতিষ্ঠান আদিবাসী নারী নেত্রী রাখি মনি সিংহার রঙ্গ রুপ নারী উন্নয়ন সংস্থাকে কাজ দিয়ে ছিল পুনাক।

বিষয়টি নিয়ে সে সময় নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়ে ছিল। ২০২৪ সালের অনুষ্ঠিতব্য বানিজ্য মেলা আয়োজনের বিষয়টি জানতে মুক্তিযোদ্ধা হেলথ্ সার্ভিসেস ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেনের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি জানান, আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে কাজ করছি। তিনি সম্ভবত স্থানীয় সাংসদের সাথে যোগাযোগ করছে আমাদের অনুমতি প্রদান করেছে। বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ারের সাথে তার সার্ভিস মোবাইল ০১৩১৮ ২৩৬০১২ নম্বরে কল দিলে তিনি রিসিভ করেন নি। ফেনী জেলা প্রশাসক শাহীনা আক্তার অনুমতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, মামলা বিষয়ে আমি জানতাম না বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আমাদের কাছে গত ২৫/০১ বৃহস্পতিবার একটি অনুমতির আবেদন দিয়ে গেছে আমরা এখনো লিখিত অনুমতি প্রদান করিনি। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ নিয়ে মামলা থাকে তবে নির্বাহী প্রকৌশলী জবাব দেবেন। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ডিজি)’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা মাঠ ভাড়া দেইনি মাঠ নিয়ে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত