বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬

ফ্যাসিষ্ট সরকারের গায়েবি মামলার ভুত পুলিশের গাড়ে, ভুক্তভোগীরা অর্থনৈতিক মানসিক চাপে

আপডেট:

ক্ষীণ মনে হচ্ছে। মামলা বাণিজ্য নিয়ে তিনি বলেন, এদিকে সরকার পর্যাপ্ত দৃষ্টি দিচ্ছে না। পুলিশের মধ্যেও অনেক ওলটপালট হয়েছে।এদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বরিশাল পুলিশ লাইন্সে এক অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার বলেছেন, কারও নামে হয়রানিমূলক মামলা করা হলে বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমরা এ ধরনের একটি সার্কুলার দিয়েছি, যেন এ ধরনের মামলা না নেয়া হয়। তিনি বলেন, এখন অনেক মামলা হচ্ছে, তাতে অনেক নিরপরাধ লোকদের ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমি বাহিনীর প্রধানদের বলছি, যারা এ ধরনের মামলা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও অ্যাকশন নেয়ার জন্য। যদি এ ধরনের মামলা নেয়া হয়, তাহলে বাদীর বিরুদ্ধে যেন অ্যাকশন নেয়। এর আগে ঢালাও মামলা নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা ওঠার পর সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ বাহিনীকে যাচাই বাছাই করে মামলা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। মঙ্গলবার আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও বলেছেন, দেশে ঢালাও মামলার প্রবণতা দেখা দিয়েছে যা বিব্রতকর। এসময় তিনি বলেন, দু’টি বিষয়ে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের কাছে সহায়তা চেয়েছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গায়েবি মামলা হতো। সরকারের পক্ষ থেকেও গায়েবি মামলা দিতো। আর এখন আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দিচ্ছি না। সাধারণ লোকজন, ভুক্তভোগী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তারা অন্যদের ব্যাপারে ঢালাও মামলা দিচ্ছে। ঢালাও মামলার একটা মারাত্মক প্রকোপ দেশে দেখা দিয়েছে। এটি আমাদের অত্যন্ত বিব্রত করে।অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, বিগত সময়ে আমরা মামলা বাণিজ্য নামক একটি প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। ব্যক্তি ওই অপরাধের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত না, অথবা ব্যক্তি জীবিত নেই বা দেশে থাকেন না- এদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। এসকল মামলায় উদ্দেশ্য ছিল দু’টি, সেটি হলো- সরকার রাজনৈতিকভাবে বিরোধী মত অথবা তার বিপরীত যে পক্ষ ছিল অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, অথবা এলাকা বা রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে দূরে রাখা। আর পুলিশের একটি অংশ এখান থেকে আর্থিকভাবে সুবিধাভোগী হয়েছে। এসকল মামলা যাদেরকে দিয়েছে তাদের কাছ থেকে নামটাকে বাদ দিবে বা আসামির সংখ্যাটা নিচের দিকে দিবে এরকম নানা ফন্দি ফিকির অথবা উপায়গুলো উপস্থাপন ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি বা তার পরিবারের কাছ থেকে নানা ধরনের আর্থিক সুবিধা নিয়েছে। এখন গত ৫ই আগস্টের পরে কিন্তু আমাদের এরকম হয়রানি, গায়েবি মামলা, মামলা বাণিজ্য বা অন্যান্য প্রসঙ্গ এগুলো থাকবে না এই প্রত্যাশা কিন্তু আমাদের সকলেরই ছিল। প্রথম দুই মাস আমরা এর খুব একটা বেশি উপস্থিতি দেখিনি। কিন্তু পুলিশের মধ্যে একটি অংশ হয়তো এরকম মনে করছে যে, আসলে পরিস্থিতি একটি সময় গিয়ে পরিবর্তন হবে এবং তারা আগে যা করতেন সেটি হয়তো তারা করার সুযোগ পাবেন। এই প্রসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে যে, গায়েবি মামলার সংখ্যাটা বেড়ে যাচ্ছে, মানুষের নামে মিথ্যা মামলার সংখ্যাটা বেড়ে যাচ্ছে বা মানুষকে নানাভাবে কোথাও না কোথাও হয়রানি করা হচ্ছে এবং এই মামলা দেয়া না দেয়া এই প্রসঙ্গগুলোকে নিয়ে আর্থিক ভাগ-বাটোয়ারার প্রসঙ্গগুলো তৈরি হচ্ছে। এখন এই সবকিছু মিলে আমাদের যে পরিবর্তন বা সংস্কারের মধ্যদিয়ে আমরা যদি সুবিধাটা করতে চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনপ্রয়োগের প্রসঙ্গ ধরে যত ধরনের অন্যায়-অনিয়ম কিংবা মানুষের অধিকারবহির্ভূত বা বিরোধী যে সমস্ত ব্যবস্থাগুলোর অভিযোগ আছে সেই ব্যবস্থাগুলোকে কিন্তু বাদ দিতে হবে।তিনি বলেন, এই গায়েবি মামলা পরিমাণে বা সংখ্যায় অল্প হলেও আবার ফিরে এসেছে বা ফিরে আসার চেষ্টা করছে। যাদের মাধ্যমে ফিরে আসছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে জোরালো ভূমিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সুত্র মানব জমিন, প্রথম আলো,ঢাকা পোস্ট

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত