বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬

সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট

আপডেট:

বহুল আলোচিত পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের করা সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই সংশোধনীতে বাতিল করা গণভোটের বিধানও সংবিধানে ফিরিয়ে এনেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার পৃথক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বাংলাদেশের সংবিধানের মূল কাঠামোর একটি অংশ হিসাবে অভিহিত করে এ রায় দেওয়া হয়েছে। রায়ে অবশ্য পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ বাতিল করেননি উচ্চ আদালত। এ সংশোধনীর কিছু অংশ নির্বাচিত সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই রায়ের ফলে এখনই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরছে না, শুধু বাধা দূর হয়েছে। কারণ একই বিষয়ে আপিল বিভাগে একটি রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। জানুয়ারিতে এর শুনানি হবে।আইনই সংবিধানের নিরিখে বিচার্য হবে। আর সুপ্রিমকোর্ট হচ্ছে সংবিধানের অভিভাবক। যে কোনো আইনেরই বৈধতা অবৈধতা নিরূপণ করবেন সুপ্রিমকোর্ট। সংবিধান কেবল অতীত এবং বর্তমানকে নিরূপণ করে না, এটা ভবিষ্যতে কোনো উদ্ভূত বিষয়ের জন্যও। একইভাবে সংবিধান কেবল দালিলিক নথি নয়, এটি একটি জীবন্ত দলিল বলে অভিহিত করা হয় রায়ের পর্যবেক্ষণে। আদালত আরও বলেন, সংবিধান হচ্ছেÑ অন্তর্ভুক্তিমূলক, বিকাশমান ও পরিবর্তনশীল। এটি সময় ও সামাজিক চাহিদা অনুযায়ী বিকাশমান এবং পরিবর্তনশীল।পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, সাংবিধানিক ও আইনগত পরিবর্তনগুলো সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অনুযায়ী করতে হবে। যেখানে সংবিধানের সংশোধনীর ক্ষেত্রে সংসদকে অবারিত ক্ষমতা দেওয়া হয়নি বা সংসদের ক্ষমতাকে সীমিত করা হয়েছে মৌলিক কাঠামো দ্বারা; সেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়; যদিও মৌলিক কাঠামো অসংশোধনযোগ্য।পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, একমাত্র গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মৌলিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা যায় এবং গণতন্ত্র হচ্ছে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো।রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এটি কোনোভাবেই সংশোধন করা যাবে না। গণতন্ত্র বিকশিত হয় একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। যদিও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা মূল সংবিধানে ছিল না। কিন্তু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচনের অভিপ্রায়ে ১৯৯৬ সালে তা সংবিধানে যুক্ত করা হয়। ফলে এই ব্যবস্থাটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোরই অংশে পরিণত হয়েছে।পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির পর বিগত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের আস্থার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এই তিনটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার পাশাপাশি জনগণের আস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে এর সর্বশেষ প্রতিফলন উল্লেখ করে আদালত বলেছেন, সরকারকে বিতাড়িত করতে গিয়ে হাজার হাজার হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনগণের আকাক্সক্ষা হচ্ছেÑ একটি নতুন গণতন্ত্র, নতুন স্বাধীনতা, নতুন বাংলাদেশ, যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। পঞ্চদশ সংশোধনী জনগণের এসব আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত