স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরের সীমানা পর্যন্ত উন্নয়ন কর্মকা-ের দায়িত্বে। কিন্তু এ সংস্থাটির নিয়োগ প্রক্রিয়া অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। কারও চাকরির জন্য কোনো রকম নিয়োগ পরীক্ষার দরকার হয় না। প্রকল্পে অস্থায়ী চাকরি দিয়ে পরবর্তী সময়ে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর। এটি করতে গিয়ে এতটাই অনিয়ম হয়েছে যে, কৃষি বা অন্য বিষয়ে লেখাপড়া করা ব্যক্তিও এখন এলজিইডির সিভিল ইঞ্জিনিয়ার তথা সরকারের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। এমন অসম্ভবকে সম্ভব করতে আত্মীয় হলে তো কথাই নেই। আর অর্থের জোর বা রাজনৈতিক প্রভাব থাকলেও একই কায়দায় চাকরি মেলে এলজিইডিতে।এর বিপরীতে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে যথাযথ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিপাকে। বর্তমানে কর্মকর্তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। মামলার ফলে পদোন্নতি নেই। অযোগ্যদের পুনর্বাসনে সংস্থার কার্যক্রমে স্থবিরতা চলছে। এমন বাস্তবতায় উঠে এসেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিতেও। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রশীদ মিয়ার সঙ্গে কয়েক দফা চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তদন্ত কমিটির সদস্য ও এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন বলেন, বিষয়টি অনেক জটিল। এ নিয়ে চার থেকে পাঁচটি মিটিং হয়েছে। নানা বিষয় উঠে এসেছে তদন্তে। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।(পিএসসি) সুপারিশ বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ২৫৭ জন প্রকৌশলীর ক্ষেত্রে পিএসসিরও সুপারিশ নেওয়া হয়নি। নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও বিধি অনুসরণ না করেই এই প্রকৌশলীদের রাজস্ব খাতে পদায়ন ও নিয়মিত করা হয়। কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভূতাপেক্ষ তারিখে নিয়মিত করার সুযোগ না থাকায় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে এই প্রকৌশলীদের নিয়মিতকরণের আদেশ জারির বিধিগত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্যেষ্ঠতা তালিকায় অবস্থান নির্ধারণ না করে ২৫৭ জন প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এতে ২০০৮ সালের পরে পিএসসির মাধ্যমে এলজিইডিতে নিয়োগ পাওয়া সহকারী প্রকৌশলীরা প্রাপ্য পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিয়মিতকরণ বিধিমালা অনুযায়ী, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে নিয়মিত করতে হলে চাকরির ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। ২৫৭ জন প্রকৌশলীকে রাজস্ব খাতভুক্ত করার প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ৩৬ জনের চাকরির ধারাবাহিকতা ছিল না। অর্থাৎ তারা সে সময় কর্মরত ছিলেন না।প্রতিবদনে আরও বলা হয়েছে- প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলীদের চাকরি রাজস্ব খাতে নিয়মিতকরণের জন্য পরামর্শ চাওয়া হয় পিএসসির কাছে। ২০১০ সালে চারটি পৃথক চিঠিতে মতামত চাওয়া হয়। এর জবাবে ওই বছর ৫ সেপ্টেম্বর পিএসসি বলেছিল, মামলার রায়ের আলোকে প্রথমে তাদের রাজস্ব খাতের পদে ‘অ্যাবজর্ব’ করতে হবে। এরপর তাদের চাকরি নিয়মিতরণের জন্য অ্যাবজর্ব তথা রাজস্ব খাতের পদে পদায়নের আদেশসহ প্রস্তাব কমিশনে পাঠানোর কথা। কিন্তু তা না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে তাদের রাজস্ব খাতে পদায়ন ও নিয়মিতকরণ করে।

