বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশে আরেকটা লড়াই হবে। সেই লড়াইয়েও আমরা জয়লাভ করব। একটি লড়াই হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। আরেকটি লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, আল্লাহ আমাদের যদি সুযোগ দেন ক্ষমতায় গেলে জনগণের মালিক হব না, সেবক হয়ে কাজ করব।
শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশে এ কথা বলেন জামায়াত আমির। সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে মঞ্চে দুইবার পড়ে যান ডা. শফিকুর। পরে মঞ্চে বসেই বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
এদিন ঢাকার বুকে ইতিহাস লিখল জামায়াতে ইসলামী। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই প্রথম এককভাবে সমাবেশ করেছে দলটি। জামায়াতের ডাকে সাড়া দিয়ে জনসমুদ্রে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ দেশের অধিকাংশ প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।
পিআর পদ্ধতির পক্ষে না থাকায় সমাবেশের দাওয়াত পায়নি বিএনপিসহ কয়েকটি ছোট রাজনৈতিক দলের কোনো প্রতিনিধি। জামায়াতের এই সমাবেশ থেকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জুলাই ঘোষণাপত্রসহ ৭ দফা দবিকে আরও জোরালো করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় শুরু হয় জাতীয় সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা। প্রথম পর্বে ইসলামিক সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করে বিভিন্ন সংগঠন। জোহরের নামাজ এবং খাবারের বিরতি দিয়ে শুরু হয় সমাবেশের মূল পর্ব।সমাবেশে যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে ও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনজন। এদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। একজনের মৃত্যু হয়েছে অসুস্থজনিত কারণে। শুক্রবার রাতে দুর্ঘটনায় নিহত হন খুলনার দাকোপ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শেখ আবু সাঈদ (৫২)। পরে আহত আরও একজন জামায়াত নেতার মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ (৫৫)। অপর একজনের মৃত্যু হয় অসুস্থ জনিত কারনে। তার নাম মোস্তাফিজুর রহমান কলম বিশ্বাস (৫০)। তিনি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার চরমিরকামারী গ্রামের মাহবুব বিশ্বাসের ছেলে।
জামায়াতের সমাবেশে সারাদেশ থেকে প্রায় ১৫ লাখ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে দলের প্রচার বিভাগ। সমাবেশে যোগ দিতে শুক্রবার রাত থেকেই জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। শনিবার ফজরের আগেই সোহরাওর্দী উদ্যানের প্রধান মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়। বেলা ১১টায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় সমাবেশ স্থল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের চারপাশে অবস্থান নেয় মানুষ। দৈনিক বাংলা মোড় থেকে শুরু করে শান্তিনগর, কাওরান বাজার, কাঁটাবন থেকে শুরু করে বকশীবাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে সমাবেশের অংশ।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ও অন্যান্য সময় সংঘটিত সকল গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্রের সব স্তরে প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, ঐতিহাসিক জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্রের পূর্ণ বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ ও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতকরণÑ এই সাত দাবিতে জাতীয় সমাবেশ করে জামায়াত।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতির মুলোৎপাটনের জন্য আমরা যা দরকার করব। এতেও আমরা বিজয়ী হব। আমি গভীর পরিতাপের সঙ্গে জানাচ্ছি, আজকের এই সমাবেশ আয়োজন করতে গিয়ে তিনজন ভাই নিহত হয়েছেন। তারা এই সমাবেশে এসে একজন অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন। আল্লাহ তাদের কবুল করুন।
ক্ষমতায় গেলে জনগণের মালিক হব না, সেবক হয়ে কাজ করব:ডা.শফিকুর রহমান
আপডেট:

