শুক্রবার, মার্চ ৬, ২০২৬

ফেনী সহ সারাদেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামছাড়া

আপডেট:

দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামছাড়া। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি, মাছ, মাংস ও ডিমের দাম এক মাসের ব্যবধানে গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও সরবরাহ সংকটকে দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিক্রেতারা।ফেনী সহ সারাদেশে এ বাড়তি চাপ সহ্য করতে গিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এক মাস আগেও যেখানে কাঁচামরিচের দাম ছিল ২০০ টাকা কেজি, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে। মাসের ব্যবধানে কাঁচামরিচে বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। শুধু কাঁচামরিচ নয়, প্রায় সব সবজির দামই আকাশছোঁয়া। দেশি শশা ৮০ টাাকা কেজি, বেগুন ১০০ টাকা কেজি, করলা ৮০ টাকা কেজি, দেশি গাজর ১২০ টাকা কেজি, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা কেজি, বরবটি ৮০ টাকা কেজি, ঢেঁড়স ৮০ টাকা কেজি, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি, পটল ৮০ টাকা কেজি, কাকরোল ৬০ টাকা কেজি, কচুরমুখী ৫০ টাকা কেজি, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা কেজি, জালি কুমড়া (প্রতি পিস) ৫০ টাকা, লাউ (প্রতি পিস) ৫০ টাকা।
এছাড়া পেঁয়াজের দামও বেড়েছে ২০—২৫ টাকা। গত মাসে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন বাজারে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা প্রতি কেজি। তবে আলু, রসুন ও আদার দামে আপাতত স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। এখন আলু ২০-২৫ টাকা, রসুন ১৪০-১৬০ টাকা এবং দেশি আদা ১৭০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারেও আগুন। এক মাস আগেও ডজনপ্রতি ডিম বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকায়, এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। ফার্মের ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০—১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০-৩৫০ টাকা। মাংসের দামও নাগালের বাইরে চলে গেছে। গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০—১২০০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে নদী ও খামারের মাছের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সরবরাহ কমায় মাছের দাম চড়া। মাঝারি রুই ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি, পাঙাস: ২০০-২২০ টাকা, তেলাপিয়া: ২২০-২৫০ টাকা, কৈ: ২৮০-০৩০০ টাকা, দেশি শিং: ৭০০-৮০০ টাকা, পাবদা: ৬০০ টাকা, চিংড়ি: ৭০০-৮০০ টাকা, দেশি ছোট মাছ: ৭০০ টাকা কেজি, এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২৫০০-২৬০০ টাকা রায়েরবাজারে।বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রাজিব আহসান বলেন, এখন বাজারে সবকিছুর দাম বেশি। নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে চাহিদা অনুযায়ী বাজার করা কঠিন হয়ে গেছে। ডিম, মাছ, মাংস, সবকিছুর দামই বেশি। সন্তানদের পছন্দ মতো কিছুই কিনতে পারছি না। সরকারকে অনুরোধ করব, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা হোক। নিউ মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, আমাদের হাতে কিছু নেই। পাইকারি বাজার থেকে যে দামে কিনি, সামান্য পরিবহন খরচ আর ১০ টাকা লাভ রেখে বিক্রি করি। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। শীতের মৌসুম এলে দাম কমবে বলে আশা করছি। সবজি, মাছ, মাংস ও ডিমসহ প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি জনজীবনে তীব্র প্রভাব ফেলছে।নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজার মনিটরিং জোরদার, কার্যকর নীতি সহায়তা এবং আমদানি ব্যবস্থাকে সহজ না করলে এই অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত