জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণকে বাংলাদেশের জন্য এক বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই উত্তরণ কেবল একটি মাইলফলক নয়, বরং অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে নানা ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও বয়ে আনতে পারে।মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেন তিনি। তারেক রহমান লেখেন, আমরা যদি সাবধানতার সঙ্গে এগিয়ে না যাই, তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো অনেকগুলো বিষয় আছে। পোস্টে এলডিসি থেকে উত্তরণের যেসব ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সেগুলো হলো:
ক) বাণিজ্য অগ্রাধিকার হারানোর ফলে আমাদের পোশাক রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রতিযোগিতামূলকতা হ্রাস পেতে পারে।
খ) দেশের রিজার্ভ এবং ঋণ ইতোমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় এলডিসি থেকে উত্তরণের পর রেয়াতি ঋণ এবং সাহায্যের অ্যাক্সেস সঙ্কুচিত হবে এবং আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পাবে।
গ) বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) ভর্তুকিসহ যেসব বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে, সেগুলো আর প্রযোজ্য হবে না। ফলে, প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম বৃদ্ধি পাবে।
ঘ) একটি খাতের উপর রপ্তানি নির্ভরতা আমাদের অর্থনীতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। আমাদের দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ঝুঁকির মধ্যে থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
পোশাকের বাইরে আমাদের রপ্তানি ভিত্তিকে আইসিটি, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং অন্যান্য মূল্য সংযোজন শিল্পে বৈচিত্র্যকরণ
ঋণের ফাঁদ এড়াতে এবং উন্নত আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করা বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক থাকার জন্য উৎপাদনশীলতা, বাণিজ্য সরবরাহ এবং আধুনিক অবকাঠামোতে বিনিয়োগ
রূপান্তরকে সমর্থন করার জন্য বাণিজ্য সুবিধা এবং সবুজ অর্থায়নের উপর বিদেশী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন তারেক রহমান আহ্বান জানান, আমরা যেন আমাদের শ্রমিক, কৃষক এবং যুবকদের একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পেছনে ফেলে না যাই। এলডিসি থেকে উত্তরণের সুফল ভোগে সক্ষম হওয়ার জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য বাস্তব অগ্রগতি এবং সুযোগের প্রয়োজন



