সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,গত শনিবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার সেনানিবাসে অবস্থিত সেনাপ্রধানের সরকারি বাসভবনে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, সেনাপ্রধানের আমন্ত্রণেই মির্জা ফখরুল সেখানে যান।বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিএনপি কিংবা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে এ বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।সম্প্রতি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানা যায়। গত মাসে তিনি মালয়েশিয়া সফর করেন এবং এ মাসের মধ্যভাগে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যান জানিয়েছে, আগামী ১৪ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনা পাঠানো দেশগুলোর অংশগ্রহণে দুই দিনের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হবে। সেখানে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।এ বিষয়ে বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সেনাপ্রধানের সফরসূচি চূড়ান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।দ্য স্টেটসম্যান-এর তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে ৩০টিরও বেশি দেশের সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, রুয়ান্ডা, আলজেরিয়া, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, ঘানা, মঙ্গোলিয়া, শ্রীলঙ্কা, তানজানিয়া, ভিয়েতনামসহ আরও অনেক দেশ।ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাকেশ কাপুর জানান, এই সম্মেলন হবে একটি “বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার মঞ্চ”, যেখানে জাতিসংঘ সনদের অধীনে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সেনাবাহিনীগুলোর অভিজ্ঞতা ও অঙ্গীকার বিনিময় করা হবে।সম্মেলনের দুইটি অধিবেশনে শান্তিরক্ষা মিশনের টেকসই সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশের ৫ হাজার ৬৮৫ জন শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশের মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে তৃতীয় স্থানে রয়েছে-প্রথমে নেপাল (৬,০৩৯) ও দ্বিতীয় স্থানে রুয়ান্ডা (৫,৯০৫)।

