ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় নেতাদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইউরোপের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবংপ্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা নিয়ে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ইতালির লক্ষ্য আগামী মার্চ মাসের ইউরোপীয় কাউন্সিলের বৈঠকে এই সমস্যাগুলোর সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা। ইতালির কৌশলগত. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে নতুন জোট
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ ) অতিরিক্ত আমলাতন্ত্র বা ‘ব্যুরোক্রেসি’ যেন উৎপাদনশীলতায় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মেলোনি।
বিশেষ উদ্যোগ: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে ইতালি, জার্মানি এবং বেলজিয়াম মিলে একটি ‘লাইক-মাইন্ডেড’ গ্রুপ গঠন করেছে।এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসায়িক পরিবেশকে সহজতর করা এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনা। জ্বালানি সংকট ও বাজার নিয়ন্ত্রণ ইউরোপের শিল্পের চাকা সচল রাখতে জ্বালানি মূল্যের লাগাম টানা অপরিহার্য বলে মনে করেন ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী। ক্রমবর্ধমান দাম কমিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তিনি। আর্থিক বাজারে অহেতুক জল্পনা-কল্পনা বা স্পেকুলেশন বন্ধের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যা কৃত্রিমভাবে খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ড্রাঘি ও লেট্টার প্রতিবেদনের গুরুত্ব এই আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে মারিও দ্রাঘি এবং এনরিকো লেট্টার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোকে গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনগুলোতে ইউরোপের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে মেলোনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আঞ্চলিক সংহতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
মেলোনি কেবল ইতালির জন্য নয়, বরং সমগ্র ইউরোপের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন:
দক্ষিণ ইউরোপের ঐক্য: আঞ্চলিক সংহতি বজায় রাখতে তিনি দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলোর সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।পারস্পরিক সমঝোতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তিনি ‘রেসিপ্রোসিটি’ বা পারস্পরিক সমঝোতার নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান, যাতে বিদেশি অসম প্রতিযোগিতার মুখে ইউরোপীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। জর্জিয়া মেলোনির এই অবস্থান স্পষ্ট করে যে,বলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে ইতালি এখন ইউরোপের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আরও সক্রিয় এবং নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা পালন করতে চায়।
ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় নেতাদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বাজার ব্যবস্থা ও জ্বালানি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি : মেলোনির
আপডেট:

