রোম, ইতালি | বিশেষ প্রতিনিধি:
২০১৯ সালে বাজেয়াপ্ত করা জার্মান এনজিও জাহাজ ‘সি-ওয়াচ’ (Sea-Watch)-কে ৭৬ হাজার ইউরো (প্রায় ১ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইতালির পালেরমো আদালত। আদালতের এই রায়ের পর ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে উত্তপ্ত ঝড়। বিশেষ করে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও বর্তমান যোগাযোগ মন্ত্রী, উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি এই রায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সাধারণ করদাতাদের অর্থের অপচয় বলে অভিহিত করেছেন।রায়ের বিস্তারিত আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে অবৈধ অভিবাসী উদ্ধারের অভিযোগে জাহাজটি জব্দ করার ফলে এনজিওটির যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার বিপরীতে ইতালি রাষ্ট্রকে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এই ৭৬,০০০ ইউরো মূলত জাহাজের ডকিং খরচ, জ্বালানি এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ব্যয় বাবদ এনজিওটিকে দেওয়া হবে।সালভিনি’র কড়া প্রতিক্রিয়া রায়ের পর এক বিবৃতিতে মাত্তেও সালভিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গার্দিয়া দি ফিনাঞ্জার (ইতালীয় কোস্টগার্ড) বোটে ধাক্কা দেওয়া এবং অবৈধভাবে অভিবাসী নামানো একটি এনজিওকে সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”
বিখ্যাত ইতালীয় সাইক্লিস্ট জিনো বার্টালির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “সবকিছুই ভুল, সবকিছুই নতুন করে করতে হবে।” সালভিনি মনে করেন, এই রায় সাধারণ ইতালীয়দের পকেটে হাত দেওয়ার শামিল এবং এটি দেশের নিরাপত্তার জন্য কাজ করা বাহিনীর প্রতি চরম অবমাননা।বিচার বিভাগীয় সংস্কারের ডাক দিয়েছেন
এই রায়কে কেন্দ্র করে সালভিনি ইতালির বর্তমান বিচার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। তিনি আগামী ২২ ও ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য বিচার বিভাগীয় সংস্কারের গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। লিগ নেতা স্পষ্ট করে বলেন, “যারা এই গণভোটে অংশ নেবেন না বা বিপক্ষে ভোট দেবেন, তারা পরোক্ষভাবে ইতালির আইন অমান্যকারী এনজিওদেরই সহযোগিতা করবেন।” তিনি মনে করেন, বিচার ব্যবস্থার সংস্কার ছাড়া এই ধরণের ‘অযৌক্তিক’ রায় বন্ধ করা সম্ভব নয়।২০১৯ সালে লিগ নেতা সালভিনি যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি মানবপাচার রোধে এবং সীমানা সুরক্ষায় অত্যন্ত কঠোর নীতি গ্রহণ করেছিলেন। সেই সময় সি-ওয়াচ জাহাজটি নির্দেশ অমান্য করে ল্যাম্পেডুসা বন্দরে প্রবেশ করলে সেটি জব্দ করা হয় এবং জাহাজটির ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পালেরমো আদালতের এই সাম্প্রতিক রায় সালভিনির সেই অভিবাসন বিরোধী অবস্থানকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে।
ফটো : হ্যালো ইতালি

