[রোম, ইতালি | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬]
ইতালিতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা ‘কম মজুরি’ বা ‘লো ওয়েজ’ সমস্যার সমাধানে পার্লামেন্টে আজ এক ঐতিহাসিক লড়াই শুরু হয়েছে। “প্রতি ঘণ্টায় ১০ ইউরোর নিচে বেতন নয়”—বিরোধী দলগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাবে রীতিমতো চাপে পড়েছে মেলোনি সরকার। এপ্রিল মাসেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত এই খসড়া বিলটি নিয়ে ইতিমধ্যে ইতালির সাধারণ জনগন ও প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
বিরোধী দলের প্রধান হাতিয়ার: প্রধান বিরোধী দল পার্তিতো ডেমোক্রাতিকো (PD)-এর নেত্রী এলি শ্লিন এবং ফাইভ স্টার মুভমেন্ট (M5S)-এর নেতা জুসেপ্পে কন্তে এই প্রস্তাবটিকে তাদের প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা বানিয়েছেন। তাদের দাবি, বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ১০ ইউরোর নিচে কাজ করা মানেই দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) চাপ: ইইউ-এর নতুন ডিরেক্টিভ অনুযায়ী প্রতিটি দেশে ‘পর্যাপ্ত ন্যূনতম মজুরি’ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। ইতালি ইউরোপের সেই অল্প কয়েকটি দেশের একটি যেখানে কোনো আইনি ন্যূনতম মজুরি নেই। ফলে এবার আইনি চাপও সরকারের ওপর বাড়ছে।
কাদের বেতন সবচাইতে বেশি বাড়বে? বিলটি পাস হলে বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতা কর্মী (Cleaning), কৃষি (Agriculture), রেস্টুরেন্ট এবং লজিস্টিকস সেক্টরে কর্মরতদের বেতন বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। বর্তমানে অনেক প্রবাসী এসব খাতে ৫ থেকে ৭ ইউরোতেও কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি সরাসরি ‘আইনি মজুরি’র বদলে ‘কালেক্টিভ বার্গেনিং’ বা মালিক-শ্রমিক চুক্তির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে বিরোধী দলগুলো বলছে, কেবল চুক্তিতে কাজ হবে না, আইন করে ১০ ইউরো ফিক্সড করতে হবে। এই বিলটি পাস হলে প্রবাসীদের জীবনে তিনটি বড় পরিবর্তন আসবে:
আর্থিক স্বচ্ছলতা: ১০ ইউরো মানে মাসে ১৬০ ঘণ্টা কাজ করলে অন্তত ১,৬০০ ইউরো (গ্রস) স্যালারি। এটি একজন শ্রমিকের জন্য বিশাল সাপোর্ট।
কালোবাজারি রোধ: বেতন আইনিভাবে নির্ধারিত হয়ে গেলে মালিকরা আর ইচ্ছামতো বেতন কমানোর সুযোগ পাবে না।সজর্নো রিনিউয়াল সহজ: বেতন বেশি দেখালে সজর্নো (স্টে পারমিট) বা ফ্যামিলি ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় আয়ের (Reddito) শর্ত পূরণ করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
সুত্র: লা রিপাবলিক,
পার্লামেন্টে ঐতিহাসিক লড়াই ইতালিতে ১০ ইউরো ন্যূনতম মজুরি শ্রমিকদের ভাগ্য বদল
আপডেট:

