রোম/ ইতালি : ইরানের চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে যখন উদ্বেগের পারদ চড়ছে, তখন ইতালির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পালাজ্জো চিগি’ থেকে একটি মানবিক ও কৌশলগত বার্তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোমের মতে, তেহরানের নেতাদের রাজনৈতিক বা সামরিক সিদ্ধান্তের “পাপের মূল্য” সাধারণ ইরানি জনগণকে দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়।
১. সামরিক সংঘাত ও বেসামরিক ঝুঁকি
ইতালি সরকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, আসন্ন সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি সমগ্র ইরানি ভূখণ্ডকে গ্রাস করতে পারে। বিশেষ করে যেখানে সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়বে। যদিও ইতালি তেহরান সরকারের “অস্থিতিশীল আচরণের” কঠোর নিন্দা জানিয়েছে, তবে সংঘাতের বিস্তৃতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির দিকেই ইঙ্গিত করে।
ইতালি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) অভিন্ন অবস্থানে থেকে ওয়াশিংটন থেকে একটি কৌশলগত দূরত্ব বজায় রাখছে। তাদের মূল লক্ষ্য:বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষা করা।সংকটের একটি সমঝোতামূলক ও দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করা।চরম বিপর্যয় এড়াতে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখা।
২. জ্বালানি নিরাপত্তা ও ইতালির প্রস্তুতি
উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলের সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়ায় জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে পালাজ্জো চিগি পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখলেও এখনই এটিকে ‘জরুরি অবস্থা’ বলতে নারাজ। বিকল্প হিসেবে ইতালি যা করছে:বিকল্প উৎস: আলজেরিয়া, লিবিয়া এবং আজারবাইজানের সাথে জেট ফুয়েল ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।কূটনৈতিক তৎপরতা: প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সম্প্রতি আমিরাত, সৌদি আরব এবং কাতার সফর করেছেন। তিনি দেশগুলোকে এই বার্তা দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় ইতালি সক্রিয় ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।
”আগামী এক মাসের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” > — গুইদো ক্রোসেত্তো, প্রতিরক্ষামন্ত্রী (করিয়েরে দেল্লা সেরা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে)সংসদে মেলোনির ব্রিফিং
আগামী বৃহস্পতিবার ইতালীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তাঁর সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিফিং করবেন। সেখানে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে তাঁর আলোচনার সারসংক্ষেপ এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরবেন। ইতালি একদিকে যেমন ইরানের বর্তমান শাসনের সমালোচনা করছে, অন্যদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে সাধারণ মানুষ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে রক্ষা করতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। এটি স্পষ্ট যে, ইউরোপ আপাতত সংঘাতের চেয়ে সমঝোতার পথকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তথ্য সুত্র : আনসা

