লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তারিখ ঃ ১৩.০২.২২০২৪
১১ই ফেব্রুয়ারী সকাল ১১ টা ১৭ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়ে ২৬ মিনিটের মোনাজাত বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ সহ সব মানুষের পাপ তাপ দূর করা সহ বাংলাদেশের জন্য দোয়া করা হয়! মোনাজাত পরিচালনা করেন তবলিগ আমীর মাওলানা সাদের ছেলে “ইউসুফ বিন সাদ”! ৬৫ দেশের মানুষ এসেছিলেন। নয় সাড়ে ন’হাজার বিদেশি ছিলেন। ইংরেজি উর্দু হিন্দি ফার্সি স্পিকিং ছিলেন। জমকালো প্যান্ডেল এবং আলোকসজ্জা সাথে সরকার নিছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্হা দিয়েছেন।
দুঃখজনক হলো ৬ জন ধর্মপ্রাণ মুসল্লী মৃত্যু বরন করেছেন (ইন্না-লিল্লাহ —)
বিশ্বের সবচেয়ে বড় জমায়েত ‘সৌদি আরবের মক্কা’ হজ্ব উপলক্ষে, প্রায় ৪০/৫০/৬০ লক্ষ মানুষ একত্রিত হন!
বাংলাদেশের তুরাগ তীরে দ্বিতীয় জমায়েত প্রায় ২৫/৩০ লক্ষ লোকের জমায়েত এই ক্ষুদ্র গরীব বাংলাদেশে!
গর্ব বোধ করি লেখক এবং বাঙালি হিসাবে!
বিশ্বে ২৩৫ দেশ (জাতিসংঘের সদস্য ১৯৫ দেশ) থাকতে বাংলাদেশে এত বড় ধর্মীয় জমায়েত কেন?
১৯২৬ সালে মাওলানা ইলিয়াস কন্ধবী (রাহঃ) তবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন মানুষ কে ইসলামের পথে আনার জন্য দাওয়াতের মাধ্যমে। অরাজনৈতিক এ দাওয়াত রাজনৈতিক ধ্যানধারনা দূরে রেখেছেন কারন ইসলাম কে ক্ষমতায় যাওয়ার দুনিয়াদারি করলে ধর্ম থাকে না, হয়ে যায় ব্যবসা আর অহমিকা! ১৯৪৬ সালে তার ছেলে মাওলানা ইউসুফ
কাকরাইল মাদ্রাসায় জমায়েত শুরু করে ইসলামের দাওয়াত দেন। মাঝে চিটাগং সহ সিদ্ধেশ্বরী হয়ে একসময়
১৯৬৬ সালে টঙ্গী মুনসুর জুটমিলের সামনের যতটুকু জায়গা, সেখানে শুরু হয় স্হায়ী জমায়েত!
বাংলাদেশ স্বাধীন হলে জাতির জনক যেমন O I C তে যোগ দিয়ে বাংলাদেশ কে সদস্য করেন তেমনি U N O সদস্য হন, ইসলামি ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম করেন,ঘোড় দৌড় জুয়া মদ আমদানি বন্ধ করেন তেমনি
১৬০ একর জমি দেন তুরাগ তীরে তবলীগ জমায়েত
প্রসস্থ করতে! এত লোক সমাগম এক সাথে সামাল দেয়া কষ্ট বিধায় ২০১১ সালে দুই স্তরে তবলীগ জমায়েতের পরিকল্পনা করা হয়।
প্রিয় পাঠক, দূঃসংবাদ হচ্ছে তবলীগের ভিতর ধর্মীয় মতাদর্শে ফাটল ধরে সম্ভবত ২০১৮ সালে ডিসেম্বর।
মাওলানা সাদ কান্দোলভি আমীর হওয়ার পর তিনি কিছু ধর্মীয় সংস্কারের কথা বলেন যা কওমি মাদ্রাসা শিক্ষিত লোকদের ব্যবসা বানিজ্য রাজনৈতিক আদর্শে আঘাত হানে। মাওলানা সাদ পরিষ্কার বলেছেন –
১. ইসলাম শিক্ষা দিয়া পয়সা নেয়া হারাম।
ক. মিলাদ পড়ায়ে
খ. নামাজের ইমামতি করে
গ. কোরবানির গরু খাশি জবেহ করে দিয়ে
ঘ. কুরআন শিখায়ে
ঙ. ওয়াজ নছিহত করে
চ. ধর্মীয় ঝাড়ফুঁক করে
ছ. যারা ছবি তোলা হারাম বলে তারা ভিডিও লোডেড মোবাইল নিয়ে কেমনে নামাজ পড়ে?
ইত্যাদি।
তিনি বলেছেন এসব থেকে পয়সা নেয়া বেশ্যার কামই থেকে খারাপ। এদের আগে বেশ্যারা বেহেশতে প্রবেশ করবে কারন তাদের এ রুজি খেতে কিছু কারন পিছে আছে আমাদের জন্য এমন আয়ের কোন কারন নাই।
এতে কওমি মাদ্রাসা পড়ুয়াদের আয় বন্ধ হয় বিধায় দুই ভাগ হয়ে তুরাগ তীরে মারামারি তে একজনের মৃত্যু ও
দেড় শতাধিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
প্রিয় পাঠক, আমি অনেক ঘাটাঘাটি করে দেখেছি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষিতরা নবী করীম সঃ এর যে স্বীকৃতি আছে বলে পয়েন্ট দেখিয়েছেন তা ভূয়া। তা একটা ফাঁকি বাজি ফিকাহ। আমি ব্যক্তগত ভাবে মনে করি মাওলানা সাদ যিনি তবলীগ প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস রহঃ পোতা শতভাগ ঠিক বলেছেন!
প্রিয় পাঠক, ১৮৬৬ সালে মাওলানা কাসেম প্রায় ১৫৮ বছর আগে ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দে প্রায় ৩৮/৩৯ কোটি রুপি খরচ করে যে কওমি মাদ্রাসা তৈরি করেছিলেন তা একটা গোলক ধাঁধা!
১. ততকালীন ৩৮ কোটি রুপি মানে এখন কার কয়েক বিলিয়ন টাকা তিনি কোথায় পেলেন? ইংরেজ রা বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে মুসলমান দূরে রাখার ফন্দি তে কাসেম সাহেব পটে গেলেন যেমন সীমান্ত গান্ধী আঃ গফ্ফার খান, ন্যাপের ওয়ালী খানের বাবা, বাংলাদেশের মোজাফফর ন্যাপ— তাকে কোটি কোটি টাকা দিয়ে মুসলমান দের দূরে রাখার প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয় তখন যখন পাঞ্জাবের অমৃতসরে জানিওয়ালা বাগে স্টেডিয়ামে কয়েক হাজার সভায় উপস্থিত মানুষ হত্যা করে ব্রিগেডিয়ার ডায়ারের নির্দেশে, গফ্ফার খান ডায়ারের সাথে দেখা করে কৈফিয়ত চাইলে তাকে লোভ দেখানো হয়। তিনি পটেন নাই কিন্তু মাওলানা কাসেম কি পটে গিয়া এই অন্ধ শিক্ষায় ৩৮ কোটি রুপি নিলেন —- জানি না, নাই কোন দলিল?
২. কেন তিনি মাওলানা আজাদদের পূর্ব সূরী মুসলিম ইংরেজ বিরোধীতা থেকে সরে গেলেন?
৩. নবী করীম সঃ যেখানে জ্ঞান বিজ্ঞান শিখতে সূদুর চীনে যেতে বলেছেন সেখানে এই শিক্ষায় তিনি জ্ঞান বিজ্ঞান ইংরেজি অর্থনীতি হিন্দি বংলা ভাষা ইত্যাদি শিক্ষা বাদ দিয়ে নিজেই মাদ্রাসার অধ্যাক্ষ সেজে গেলেন! জন্মই সস্তা উপার্জন ধর্ম বিক্রির মাধ্যমে এবং জাতিকে অন্ধ করা বিশ্ব থেকে! শায়েখ মুফতি হতে যতবছর ৬ ধাপের পড়াশোনা তার অর্ধেক সময় হাদিস রিসার্স। হাদিস কি? কে শুরু করেছেন , কত বছর পর? শুধু জানুন ২০০ বছর নবী করীম সঃ মৃত্যুর পর যে বোখারী মুসলিম ইত্যাদি বড় বড় হাদিস বই যারা করেছেন কেউ নবীকে দেখেন নাই, সাহাবা ছিলেন না, আজ বের হয়েছে বোখারী শরীফের অর্ধেক রিপিটেশন ও বাকী অনেক ভুল (সজল শাওন, ইসলমি পন্ডিত), যিনি হাদিস লিখেছেন, যিনি শুরু করেছিলেন তিনি ইসলামের শত্রু, তিনি এজিদর বাবা মুয়াবিয়া। যে লোক হয়রত ওসমান হযরত আলী ও হযরত হাসানের বিষ প্রয়োগে হত্যা কারী এবং তার ছেলে এজিদ নবীর দ্বিতীয় নাতিকে কারবালা ফোরাত তীরে হত্যা করে।
ইসলাম মুখোশে মুসলমানদের বিপথগামী করা ছিলো মুয়াবিয়ার হাদিস লেখা শুরু।। আপনি আমি আমরা কুরআনের তর্জমা শুনবো এবং তা ফলো করবো। যা আল্লাহর বানী কারো মনগড়া না!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন ধর্ম জানুন কুরআনের আলোকে!



