সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬

অতিশ দীপঙ্কর বাঙালি বৌদ্ধ দার্শনিক

আপডেট:

অতীশ দীপঙ্কর (অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান)। একজন প্রখ্যাত বাঙ্গালী পন্ডিত ছিলেন তা সবার জানা কথা।
দীপঙ্কর ১০১১ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ গমন করেন এবং আচার্য ধর্মপালের কাছে দীর্ঘ ১২ বছর দর্শনশাস্ত্রের ও বিভিন্ন বিষয়ের উপর অধ্যয়ন শেষে স্বদেশে ফিরে এসে বিক্রমশীলায় (বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়, বিহার) অধ্যাপনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।দিকে দিকে পন্ডিত দীপঙ্করের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
এসময় গুজ রাজ্যের (পশ্চিম তিব্বতের একটি প্রাচীন রাজ্য) দ্বিতীয় রাজা ব্যাং-ছুব-য়ে-শেস-ওদ এর নজরে এলে তিনি অতীশ দীপঙ্করকে তিব্বত সফরের আমন্ত্রন জানিয়ে প্রচুর স্বর্ন উপঢৌকন সমেত রাজ্যের বিশিষ্ট লোকদের বিক্রমশীলায় পাঠান। অতীশ সবিনয়ে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেও গুজ রাজা নিরাশ হননি।আরও কিছুদিন পর গুজ রাজা ব্যাং-ছুব-য়ে-শেস-ওদ সীমান্ত অঞ্চলে সোনা সংগ্রহের জন্য গেলে কারাখানী খানাতের শাসক তাকে বন্দী করেন ও প্রচুর সোনা মুক্তিপণ হিসেবে দাবী করেন। ঐসময় বন্দী রাজা তার পুত্রকে মুক্তিপন দিতে বারণ করেন এবং ঐ অর্থ অতীশ দীপঙ্করকে তিব্বতে আনানোর জন্য ব্যয় করতে বলেন। পিতার আদেশ মতো গুজ রাজপুত্র রাজ্যের রাজা হয়ে এক বৌদ্ধ উপাসকসহ কয়েকজন অনুগামীকে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানকে তিব্বতে আনানোর দায়িত্ব দেন। উপাসকদল দীপঙ্করের সাথে সাক্ষাৎ করে সমস্ত সোনা নিবেদন পূর্বক ভূতপূর্ব রাজা ব্যাং-ছুব-য়ে-শেস-ওদ’র বন্দী হওয়ার কাহিনী ও তার শেষ ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করলে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অভিভূত হন এবং তার প্রায় আঠারো মাস পর ১০৪০ খৃষ্টাব্দে তিব্বতের পথে যাত্রা করেন।
উপরের এই ঘটনায় গুজ রাজা ব্যাং-ছুব-য়ে-শেস-ওদ নিজের জীবনের বিনিময়ে অতীশ দীপঙ্করকে চেয়েছিলেন। উদ্দেশ্য, রাজ্যবাসীকে এমন একজন মহান পন্ডিতের অধীনে দীক্ষিত করা ও সঠিক পথ দেখানো।
পৃথিবীময় এমন হাজারো নজীর আছে যা ‘যুগে যুগে জ্ঞানের মর্যাদা এবং উপযুক্ত ক্ষমতায়ন নিশ্চত করা হয়েছে’ এমন সাক্ষ বহন করে। মানব সভ্যতার বিবর্তনে প্রস্তর যুগ থেকে লৌহ যুগ এবং বর্তমান জ্ঞান বিজ্ঞানের শিখরে পৌঁছাতে মেধার যোগ্য মুল্যায়ন দিতে হয়েছে।
যেখানে একটি জাতীকে পরিচালন ও সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে দক্ষ ও মেধাবী জনবলের বিকল্প নেই, সেখানে কোটা’র মতো একটি বিধ্বংসী পদ্ধতি দক্ষ ও মেধাবীদের যোগ্য পদায়নের দৌঁড়ে পিছিয়ে দিচ্ছে।
তথ্যসুত্র :ফেইসবুক
– শা ঙ ন (লেখক)

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত