বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

কাকরাইল মসজিদে চার সপ্তাহ থাকবেন জুবায়েরপন্থিরা আর দুই সপ্তাহ থাকবেন সাদপন্থিরা

আপডেট:

আগামী দুই সপ্তাহের জন্য অবস্থান নিতে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে জড়ো হয়েছেন তবলিগ জামাতের একাংশ সাদপন্থিরা। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টার পর তারা কাকরাইল মসজিদে প্রবেশ করে সমঝোতার ভিত্তিতে তবলিগের অপর অংশ জোবায়েরপন্থিদের কাছ থেকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বুঝে নেন।সারাদেশ থেকে আসা সাদপন্থিরা এদিন সকাল থেকেই কাকরাইল মসজিদ অভিমুখে আসতে থাকেন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা হয়ে হাজার হাজার সাদপন্থিকে কাকরাইল মসজিদের দিকে যেতে দেখা যায়। এর আগে ভোর থেকেই নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাকরাইল মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবলিগ জামাতের দুই পক্ষই সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেÑ কাকরাইল মসজিদে চার সপ্তাহ থাকবেন জুবায়েরপন্থিরা আর দুই সপ্তাহ থাকবেন সাদপন্থিরা। সে অনুযায়ী সাদপন্থিরা গতকাল জমায়েত হন।গতকাল থেকে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য সাদপন্থিরা কাকরাইল মসজিদে থাকবেন। এদিন কাকরাইল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন তারা। সাদপন্থিদের সমাগমে মসজিদের আশপাশের রাস্তায় যানচলাচল সকাল থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে রমনা ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে যাওয়ার পথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।রমনা জোনের ডিসি মো. মাসুদ আলম বলেন, এখন মসজিদে দুই সপ্তাহ অবস্থান করবেন সাদপন্থিরা। যাতে করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি না ঘটে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আজকে (গতকাল) শান্তিপূর্ণভাবে বের হয়ে গিয়েছেন জুবায়েরপন্থিরা, তারপর সুশৃঙ্খলভাবে প্রবেশ করেছেন সাদপন্থিরা।কয়েক বছর ধরে তবলিগ জামাতের মধ্যে যে বিবাদ চলছে সম্প্রতি তা নতুন রূপ পেয়েছে। সাদপন্থিদের নিষেধাজ্ঞার দাবিতে সরকারকে আলটিমেটামও দিতে দেখা গেছে জুবায়েরপন্থিদের। এর মধ্যেই সাদপন্থিদের ব্যাপক জমায়েত দেখা গেল গতকাল।
কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার মাঠে সাদপন্থিদের প্রবেশের সুযোগ দিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা অচলের হুশিয়ারি গত ১২ নভেম্বর দেন জুবায়েরপন্থিরা। গত ৫ নভেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘ওলামা-মাশায়েখদের ইসলামি মহাসম্মেলন’ থেকে সাদপন্থিদের নিষিদ্ধ করাসহ ৯ দফা দাবি জানা জুবায়েরপন্থিরা, যারা নিজেদের ‘শুরায়ে নিজাম’ পরিচয় দিয়ে থাকেন।দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভি এবং বাংলাদেশের কাকরাইল মারকাজের মাওলানা জুবায়ের আহমদের অনুসারীরা নিজেদের মধ্যে বিভেদে জড়িয়ে পড়েন ২০১৯ সালে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষ বিশ্ব ইজতেমা দুবারে করার সিদ্ধান্ত নেন। মাঝে কোভিড মহামারীর কারণে ইজতেমা দুই বছর বন্ধও রাখা হয়। পরে ২০২২ সাল থেকে ফের ইজতেমা হচ্ছে দুই পর্বের আয়োজনে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত