রবিবার, মার্চ ২২, ২০২৬

শ্বশুরবাড়ি থেকে ইফতার নেওয়ার সামাজিক ব্যাধি

আপডেট:

শ্বশুরবাড়ি থেকে ইফতার:-
ফাহিম আল চৌধুরী
রমজান আমাদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মাস আমাদের সংযম, ধৈর্য ও দানশীলতার শিক্ষা দেয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের সমাজে কিছু প্রথা গড়ে উঠেছে, যা রমজানের মূল শিক্ষা থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো শ্বশুরবাড়ি থেকে ইফতার নেওয়ার প্রত্যাশা।অনেক পরিবার আছে, যারা আর্থিকভাবে কষ্টে থাকলেও মুখ ফুটে কিছু বলে না। তারা সম্মানের কথা ভেবে নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ করে না, অভাব-অনটনের মধ্যে থেকেও ইফতার পাঠানোর চেষ্টা করে শুধুমাত্র মেয়ের মুখের হাসির জন্য। কারণ, সমাজের কিছু লোকজন মনে করে, শ্বশুরবাড়ি থেকে বড় ইফতার না পাঠালে সেটা অসম্মানের ব্যাপার! আবার কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের দেখানোর জন্য বড় ইফতার পাঠানোর প্রত্যাশা রাখে। কিন্তু এই মানসিকতা কি ইসলামের শিক্ষা?আসুন, এই অপ্রয়োজনীয় সামাজিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসি। আমরা যদি আন্তরিকভাবে বলি, “আমরা শ্বশুরবাড়ি থেকে ইফতার চাই না, তারা যেন তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজের পরিবারের জন্য ইফতার করতে পারে”, তাহলে সেটাই হবে প্রকৃত ভালোবাসা ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশ। এতে আমাদের স্ত্রীর চোখেও আমাদের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়বে, শ্বশুরবাড়িও আর্থিক কষ্টে না পড়ে স্বস্তিতে থাকতে পারবে, রমজান মাস ব্যয়বহুল একটি মাস। এই মাসে খাদ্যের দাম বেশি থাকে, দান-সদকার খরচ বাড়ে, এবং প্রতিটি পরিবার নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ইফতার ও সাহরির ব্যবস্থা করে।আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং এই রমজানকে বরকতময় করুন। আমিন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত