রবিবার, মার্চ ২২, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় বৈধ কর্মী পাঠানোতে শেখ রেহানা নুর আলী, নিজাম হাজারী, স্বপন সিন্ডিকেট

আপডেট:

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় সিন্ডিকেট বানিয়ে শ্রমিক পাঠানোর দ্বার উন্মুক্ত করেছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ইচ্ছা ও স্বাক্ষরেই। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো সারসংক্ষেপে ‘মালয়েশিয়ার সরকার কর্তৃক নির্বাচিত বাংলাদেশী ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশী কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা প্রসঙ্গে’ এমন তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
শেখ হাসিনার স্বাক্ষর থাকার পাশাপাশি সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রত্যাহারও হয়েছে।
উল্লেখ্য, জি-টু-জি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী প্রেরণ শুরু হলে বাংলাদেশী অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। রিক্রুটিং এজেন্সি নির্ধারণের বিষয়ে মালয়েশিয়া প্রান্তে সুরাহা না হওয়ার কারণে এতদিন শ্রমিক প্রেরণ করা সম্ভব হয়নি। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে সে দেশে শ্রমিক প্রেরণের দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া কর্তৃক মাত্র ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে নির্বাচিত করা হলেও অধিকসংখ্যক এজেন্সিকে এই কাজে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে ওই ১০ এজেন্সির প্রত্যেকের সাথে উপযুক্ত ২০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সম্পৃক্ত করে কনসোর্টিয়াম গঠন করা হয়েছে। কর্মীর চাহিদা প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওই কনসোর্টিয়াম কী প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ার নির্বাচিত রিক্রুটিং এজেন্সির প্রত্যেকটি অপর ২০টি এজেন্সিকে ভাগ করে দেবে এবং সংশ্লিষ্ট দায়দায়িত্ব কে কিভাবে বহন করবে সে সংক্রান্ত কর্মপদ্ধতি সংশ্লিষ্ট ১০টি এজেন্সির কাছ থেকে বায়রার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাওয়া গেছে।দিকে দ্বিতীয়বার সিন্ডিকেট করে পৌনে পাঁচ লাখ শ্রমিক যাওয়ার পর শ্রমবাজার বন্ধের আগ পর্যন্ত যে ১০১ জনের নাম উল্লেখ করে সিন্ডিকেট গঠন হয়েছিল তার নেপথ্যেও শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ইশারাতেই দ্বিতীয়বার ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক রুহুল আমিন স্বপনের হাত ধরে সিন্ডিকেট করে শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েও শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়া সরকারের তৎকালীন এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর হাত ধরে দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নূর আলীর নেতৃত্বে আরো একটি সিন্ডিকেট গঠন হয়। ওই সিন্ডিকেট গঠনের পর সদস্য সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১০১ জনে। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলও রয়েছে।অপর দিকে ১০১ জন রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সিন্ডিকেট গঠন করে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বায়রার একজন সদস্য সম্প্রতি সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমদ, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহিন, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী, বেনজীর আহমেদ, লে. কর্নেল (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী, বায়রার সাবেক মহাসচিব ও ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক রুহুল আমিন স্বপন, ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার মো: নূর আলীসহ মোট ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে সম্প্রতি পল্টন থানায় মানবপাচার আইনে একটি নিয়মিত এজাহার দায়ের করেছেন। এই মামলা দায়েরের পর নানা দিক থেকে হুমকি ও চাপ পাওয়ায় একপর্যায়ে বাদি দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন।

২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো সারসংক্ষেপে বলা হয়েছিল, মালয়েশিয়া সরকারের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দাতোশ্রী রিচার্ড রায়ত আনাক জেইম কর্তৃক এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর ১০-১-২০১৭ তারিখে লেখা স্মারক দেশটির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাওয়া যায়। বর্ণিত পত্রে বাংলাদেশ থেকে জি-টু-জি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী প্রেরণের জন্য বাংলাদেশী ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির নাম মনোনয়ন করা হয়েছে। এর আগে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের লক্ষ্য ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতাস্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় যোগ্যতাসম্পন্ন ৭৪৫টি এবং ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর আরো ৩৪১টিসহ মোট এক হাজার ৮৬টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। সারসংক্ষেপে বলা হয়, অনলাইন পদ্ধতিতে কর্মী প্রেরণপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত