কইতো মা আমরা গরিব দেইখা আমাগো সবাই টেসে। আমি ইতালি জামু মা। কিন্তু আমি দিতে চাই নাই। ওই ডাহাইতরা আমার কামাইসুদকে নইয়া গেছে। এহন আমারে কেডা কামাই কইরা খাওয়াবে বাবা। আমার সাহেব বাবাকে নিয়ে গেল।’ বুকফাটা আর্তনাদ করে বলছিলেন, লিবিয়ার ভূমধ্যসাগরে মাফিয়াদের গুলিতে নিহত মাদারীপুরের যুবক মুন্না তালুকদারের মা রাবেয়া বেগম। তার বাবার নাম ইমারত হোসেন তালুকদার। তিন ভাইবোনের মধ্যে মুন্না সবার বড় ছিলেন। বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করে সংসারের হাল ধরেছিলেন তিনি। গত ১ নভেম্বর থেকে ১৮ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত মঙ্গলবার মুন্নার মৃত্যুর খবর জানতে পারে পরিবার। এরপরই পালিয়ে গেছে দালাল চক্র ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।মুন্নার মৃত্যু হয়েছে মাফিয়াদের গুলিতে আর নৌকা ডুবে মারা গেছেন ইমরান খান ও বায়েজিদ শেখ নামে দুই তরুণ। কিশোরগঞ্জের আরমান মিয়ার মৃত্যুর খবরও এসেছে ১৮ দিন পর। তাদের সবার মৃত্যুর ১৮ দিন পর পরিবার জানতে পারে এই খবর।গতকাল বুধবার নিহত মুন্নার গ্রামের বাড়ি জেলার রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাবদ্দি গেলে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একমাত্র উপার্জনক্ষম আদরের সন্তানকে হারিয়ে একদিকে বুকফাটা আর্তনাদে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা, অন্যদিকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবাও। স্বজনদের চোখেও ঝরছে বুকচাপা কষ্টের পানি।গতকাল বুধবার নিহত মুন্নার গ্রামের বাড়ি জেলার রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাবদ্দি গেলে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একমাত্র উপার্জনক্ষম আদরের সন্তানকে হারিয়ে একদিকে বুকফাটা আর্তনাদে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা, অন্যদিকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবাও। স্বজনদের চোখেও ঝরছে বুকচাপা কষ্টের পানি।গত এক সপ্তাহে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নৌকাডুবির বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুই তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন। একই উপজেলার আরও ছয়জন তরুণ এখনো নিখোঁজ বলে জানা গেছে। মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর পরিবারগুলোর ঘরে চলছে শোকের মাতম। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।জানা গেছে, দালালের মাধ্যমে প্রায় ২১ লাখ টাকা খরচ করে গত অক্টোবর মাসে ইতালির উদ্দেশে অবৈধভাবে লিবিয়া যান মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষির ইউনিয়নের পশ্চিম লখ-া গ্রামের আকোব আলী শেখের ছেলে এনামুল শেখ এবং একই গ্রামের জাহিদ শেখের ছেলে আনিস শেখ

