রোম, ইতালি: ইতালির শ্রম আইনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এলো দেশটির সর্বোচ্চ আদালত (Corte di Cassazione)। আদালতের সাম্প্রতিক এক রায়ে জানানো হয়েছে, কোনো নিয়োগকর্তা যদি কর্মীদের জাতীয় চুক্তিতে (National Collective Contract) নির্ধারিত বেতনের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম বেতন প্রদান করেন, তবে তা সরাসরি ‘শ্রম শোষণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর জন্য নিয়োগকর্তাকে ফৌজদারি দণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।
রায়ের মূল দিকসমূহ,আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শ্রমিকের অসহায়ত্ব বা নিরুপায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে তাকে কম বেতনে কাজ করানো এখন থেকে আর সাধারণ নিয়ম লঙ্ঘন নয়। এই রায়ের উল্লেখযোগ্য
ফৌজদারি অপরাধ: নামমাত্র বেতনে দীর্ঘক্ষণ কাজ করানো, সরকারি ছুটি না দেওয়া বা বোনাস বঞ্চিত করা এখন থেকে জেলযোগ্য অপরাধ।শোষণের সংজ্ঞা: শোষণের প্রমাণের জন্য সব ধরনের নিয়ম একসাথে লঙ্ঘন হওয়া জরুরি নয়। যদি বেতন এবং কাজের সময়ের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকে, তবে সেটিই অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য যথেষ্ট।হুমকি বা চাপ প্রয়োগ: কোনো কর্মী যদি তার ন্যায্য পাওনা নিয়ে অভিযোগ করেন এবং তার বিনিময়ে মালিক তাকে ছাঁটাইয়ের হুমকি বা মানসিক চাপ দেন, তবে তা সরাসরি ফৌজদারি মামলার আওতায় পড়বে।
মামলার প্রেক্ষাপটএই ঐতিহাসিক রায়টি এসেছে একটি পেট্রোল পাম্পের কর্মীদের করা মামলার প্রেক্ষিতে। ওই পাম্পের কর্মীরা হাড়ভাঙা খাটুনি খাটলেও তাদের মাসে মাত্র কয়েকশ ইউরো বেতন দেওয়া হতো। এমনকি ইতালির বাধ্যতামূলক ১৩তম মাসের বেতন (Tredicesima) থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হতো। আদালত এই ঘটনাকে অমানবিক এবং আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।শ্রম বাজারে প্রভাবআইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে ইতালির শ্রম বাজারে এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মী এবং যারা কম বেতনে কাজ করতে বাধ্য হন, তাদের সুরক্ষায় এই রায় ঢাল হিসেবে কাজ করবে।সতর্কবার্তা: এখন থেকে কোনো মালিক যদি বেতন এবং কর্মঘণ্টা নিয়ে কারচুপি করেন বা চুক্তি অনুযায়ী বেতন দিতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের কঠোর আইনি পরিণতির পাশাপাশি জেল-জরিমানার মুখে পড়তে হবে।”শ্রমিকদের অভাবের সুযোগ নেওয়া কোনো ব্যবসা নয়, বরং এটি একটি অপরাধ।” — ইতালির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মূল কথা ।
ফটো : হ্যালো ইতালি

