লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তারিখ ঃ ০৯.০৮.২০২৪
কোটা আন্দোলনের উত্তাল সময় শেখ হাসিনার বিবেকহীন সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে বড় জ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত হচ্ছে “জামাতে ইসলাম বাংলাদেশ” কে নিষিদ্ধ ঘোষনা! এবার নিয়ে জায়েতে ইসলামের জনক “মাওলানা মওদুদি” আমল থেকে চার বার নিষিদ্ধ হলো!
প্রিয় পাঠক, শেখ হাসিনা শত “Unwise decision” এর পোস্টমর্টেম আমার উদ্দেশ্য না (সেটা অন্যদিন লিখবো) শুধু “জামাতে ইসলাম” কেন হতভাগা দল তা আমার লেখার বিষয়বস্ত!
অখন্ড ভারতে ইসলামি পন্ডিত, দার্শনিক “আবুল আলা মওদুদি” জামায়াতে ইসলাম” প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৪১ সালে। মজার কথা হলো তিনি অনেক জ্ঞানী ছিলেন বিধায় “মাওলানা আজাদের” মত তিনিও অখন্ড ভারতে বিশ্বাসী ছিলেন! তিনি মনে করতেন অখন্ড ভারতে ইসলামি বিপ্লব ছড়ায়ে সারা ভারত কে ইসলামের ঝান্ডা তলে নিয়ে আসবো, ছোট্ট একটা মুসলিম রাস্ট্র পাকিস্তান বানায়ে কাকে ইসলামের শিক্ষা দেবো সবই তো মুসলমান। নবী করীম সঃ ইসলামহীন বিশ্বে ইসলাম প্রচার করেছেন, আমাদের ও তেমন সততা প্রচার জেহাদ করে বিশাল ভারতকে ইসলামের ঝান্ডা তলে আনতে হবে। কিন্তু কিছু লোক ক্ষমতা ভাগাভাগি করে গান্ধী নেহেরু ইংরেজ মিলে জিন্নাহ লিয়াকত আলী দের ছোট একটা মুসলিম রাস্ট্র পাকিস্তান দিয়ে তারা কন্টক মুক্ত হলেন!
প্রিয় পাঠক, জামাতে ইসলামের মত বিশ্বে তখন
“ব্রাদারহুড” নামে আর একটা মাত্র ইসলামি দল ছিলো সম্ভবত কায়রোতে! সারা বিশ্বে জামাতে ইসলাম পরিচিত ছিলো। কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সাথে দাঙ্গা বাধায় কয়েকশ কাদিয়ানী হত্যায় ততকালীন জামাতে ইসলাম কে “নিষিদ্ধ” করা হয়! মাওলানা মওদুদি কে আদালত ফাঁসির রায় দেন। পরবর্তী তে আন্দোলন সংগ্রামে ‘যাবত জীবন’ এবং মুক্তি পান আরবীয় দেশগুলোর চাপে। পূর্বপাকিস্তানর মাওলানা ভাসানী মাওলানা আকরাম খাঁ “মাওলানা মওদুদির” ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ করেছিলেন! সময়টা ধরেন ১৯৫৩ সাল।
বছর দুই জেল খেটে বেরিয়ে আসেন। যেহেতু তিনি সৎ ও কুরআন হাদিস সুন্নাহভিত্তিক রাজনীতি তে অটল ছিলেন তাই দ্রুত আবার দল অনেক লোকের সমর্থন পুষ্ট হতে থাকে।
পূর্ব পাকিস্তানে গোলাম আযম সাহেব ১৯৫৪ সালে মাওলানা মওদুদি দ্বারা প্রভাবিত হন এবং তিনি পূর্বপাকিস্তান থেকে “রুকন” নির্বাচিত হন! ১৯৫৫ সালে তিনি গ্রেফতার হন। সম্ভবত তখন ১৯৫০ সাল থকে তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজের “রাস্ট্র বিজ্ঞানের প্রভাষক” ছিলেন! তিনি তার সততা ও অক্লান্ত শ্রমে ১৯৫৭ তে জামাতের সেক্রেটারি ও ১৯৬৯ এ আমীর (সভাপতি) নির্বাচিত হন! ১৯৬৪ সালে “জামাতে ইসলাম ” দ্বিতীয় বার নিষিদ্ধ হয়। “আবুল আলা মওদুদী” সামরিক জান্তা “আইয়ুব খানের” সাথে বিরোধে জড়ায় পড়েন এবং দল নিষিদ্ধ হয়।
গ্রেফতার হন অনেক নেতা বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তানে “অধ্যাপক গোলাম আযম”। তিনি ভাষা সৈনিক ছিলেন!
অসমাপ্ত
চলবে — (আগামী পর্বে শেষ।)
অধ্যাপক গোলাম আযম!



