মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২৬

পিআর সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের ব্যবস্থা বিভ্রান্তিমূলক সমাজ সৃষ্টি কৌশল : তারেক রহমান

আপডেট:

শাসক পাল্টিয়েছে কিন্তু শাসনের চরিত্র বোধহয় পাল্টায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের (বিএসপিপি) উদ্যোগে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ১৬ বছরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের অবদান নিয়ে আলোচনা সভা এবং শহীদ পরিবার ও নির্যাতনের শিকার পেশাজীবীদের সম্মাননায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বেলা সোয়া ৩টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। অবদান ও আত্মত্যাগ সব চাইতে বেশি।জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় সুযোগ পেলে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় স্থাপনা এবং প্রতিষ্ঠানের নামকরণ শহীদদের নামে করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। এ সময় রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। একইসঙ্গে আহতদের সুস্থতা কামনা করেন তিনি। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যারা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে রাষ্ট্র এবং সরকারে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার জন্য নানা রকমের অপকৌশল করছেন, তাদের প্রতি বিএনপি’র পক্ষ থেকে আহ্বান- দয়া করে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না। শাসক পাল্টিয়েছে, কিন্তু শাসনের চরিত্র বোধহয় পাল্টায়নি। জনগণের এমন একটা ধারণা যদি সৃষ্টি হয়, তাহলে কিন্তু গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে একটি বিশাল বড় সংকেত, সংকট হবে সেটা। এজন্য বারবার বলতে চাই, জীবন দিয়ে যেসব বীর সন্তানরা দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছেন, এখন আমাদের সেসব শহীদদের ঋণ পরিশোধের পালা। তিনি বলেন, যারা অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাড়ে বন্দুক রেখে সরকারের ওপর নিজেদের খবরদারি বহাল রাখতে চায়, সরকারের ওপর প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্নভাবে ফায়দা হাসিল করতে চায় বা নিজেদের আখের গোছাতে চায়- তাদেরকেই আমরা দেখছি, জাতীয় নির্বাচনকে সুকৌশলে বাধা সৃষ্টি করছে। এটি এখন বিভিন্ন জায়গা থেকে সামনে আসছে। গণ-অভ্যুত্থানে কৃতিত্ব কোনো একক গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়। নিত্য-নতুন রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ বা মেরূকরণের আড়ালে আমরা গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের আত্মত্যাগের কথা যেন ভুলে না যাই। তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখছি, অনেক রাজনৈতিক দল হঠাৎ করেই দেশে পিআর বা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি করছে। বাংলাদেশে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের ব্যবস্থা প্রবর্তনের অর্থ রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে বিচ্ছিন্নতাবাদ, ফ্যাসিবাদ এবং চরমপন্থা বিকাশের পথ সুগম করে দেয়া। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের ব্যবস্থা বিভ্রান্তিমূলক সমাজ সৃষ্টি এবং সরকার অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে উঠতে পারে কিংবা উঠবে। দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে। দেশের জনগণের সুদৃঢ় ঐক্য চাইলে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা কোনোভাবেই চালু হওয়া উচিত না। এ ধরনের দাবি উত্থাপনের বিষয়টিকে কোনো কোনো দল গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে দেখলেও দেশ এবং জনগণের স্বার্থে বিএনপি মনে করে, বাংলাদেশ সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য উপযোগী নয়।
অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্ট এবং গতকালের প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ও আহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ ছাড়া জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। তবে বিমান দুর্ঘটনার জন্য দলীয় সংগীত পরিবেশন স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের শাসন আমলের দুঃশাসনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং পেশাজীবীদের ভূমিকা নিয়ে একটি স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পরে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের হাতে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।
বিএসপিপি’র আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরী ও ড. মোর্শেদ হাসান খানের সঞ্চালনায় সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর ছেলে আফফান আবরার আমিন, শহীদ ব্রিগেডিয়ার আব্দুর রহিমের ছেলে আবরার রহিম, শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদীর বাবা মোশাররফ হোসেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শহীদ মুক্তাক্কিন বিল্লাহ’র স্ত্রী নাঈম এরিন মিতুসহ আহত শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতারাসহ বিভিন্ন পেশাজীবী এবং বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত