গতকাল আজ রোববার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, কিছু কিছু মানুষ বা কোনো কোনো গোষ্ঠী বিভিন্ন জায়গায়, কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে যে-অমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম; এবার অমুককে দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন, তাদেরকে তো দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে। ১৯৭১ সালে তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে কিভাবে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। ঠিক যেভাবে পতিত স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছিল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। শুধু তাই নয়, তাদের সহকর্মীরা কিভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুট করেছিল। এই কথাটি আমাদেরকে মনে রাখতে হবে।জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘মুসলমান হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, এই পৃথিবীতে এবং পৃথিবীর বাইরে যাবতীয় যা কিছু আছে, আমরা যা কল্পনা করি যা কল্পনা করতে পারি না- সকল কিছুরও মালিক একমাত্র আল্লাহতাআলা। আমরা শুনেছি, কিছু রাজনৈতিক দলের, কিছু ব্যক্তি বা বেশ কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন জিনিসের টিকিট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন জিনিসের কনফার্মেশন দিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি একজন সাধারণ মুসলমান হিসেবে যতটুকু বুঝি, যা আমার না- আমি যদি তা দেবার কথা বলি অর্থাৎ যেটি আমার না, সেটির কমিটমেন্ট যদি করি তাহলে আমি তার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছি। অর্থাৎ দোজখ, বেহেশত দুনিয়ার সবকিছুর মালিক আল্লাহ। যেটার মালিক আল্লাহ। যেটার কথা একমাত্র আল্লাহতাআলাই বলতে পারেন। সেখানে যদি আমি কিছু বলতে চাই, আমার নরমাল দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বুঝি যে, সেটি হচ্ছে শিরিক।নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের ঘরে ঘরে যেতে হবে এবং বলতে হবে যারা এসব কথা বলে তারা শিরিক করছে। আপনি যদি তাদের কথা শুনেন, আপনিও শিরিকের পর্যায়ে পড়ে যাবেন। যার অধিকার একমাত্র আল্লাহতাআলার, সেটি একমাত্র আল্লাহর অধিকার। কে কোথায় যাবে? কার ইহকালে কি হবে, পরকালে কি হবে, তা ডিসাইড করার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। আমরা পৃথিবীতে মানুষ হিসাবে মানুষের দেখভাল, যতটুকু সম্ভব আমাদের দৃষ্টি থেকে আমরা করতে পারব। আমাদের শক্তি সামর্থ্য অনুযায়ী করতে পারব। আমরা এ কালেরটা করতে পারব। এ কালেরটা কম বেশি আমরা মানুষ হিসেবে যা আমাদেরকে ক্ষমতা আল্লাহ দিয়েছে, তার ভেতরে করতে পারব। যা ক্ষমতার বাইরে তা আমরা করতে পারব না। কাজেই যারা এসব কথা বলে, তারা শিরিক করছে। একজন মুসলমান হিসেবে আমি সেটাই বুঝি। এই কথাগুলো তোমাদেরকে পৌঁছে দিতে হবে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘স্বৈরাচার যেভাবে বিএনপি সম্পর্কে যেসব মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতো, আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি- কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল ঠিক একই সুরে গান গাইছে বা একই সুরে কতগুলো কথা বলার চেষ্টা করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাদেরও তো দু’জন ব্যক্তি সেই সময় আমাদের সঙ্গে সরকারের ছিল। এই দু’জন ব্যক্তি পৃথিবীতে আর নেই। দু’জনই সিনিয়র মানুষ। দু’জনই সিনিয়র রাজনীতিবিদ ছিলেন। যে মানুষ নেই তাদের সম্পর্কে অবশ্যই খারাপ কথা বলা উচিত নয়। তাদের প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান রেখেই বলতে চাই, এই দু’জন ব্যক্তি বিএনপির সরকারে শেষদিন পর্যন্ত থাকা প্রমাণ করে দেয়, তাদের পূর্ণ আস্থা ছিল খালেদা জিয়ার উপরে। সেজন্যই তারা শেষদিন পর্যন্ত ছিলেন।একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ চাইতারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুরও বানাতে চায় না, মালয়েশিয়াও বানাতে চায় না, কানাডাও বানাতে চায় না, যুক্তরাষ্ট্র বানাতে চায় না। আমরা চাই, একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ। যেই বাংলাদেশের মানুষ দেশের ভেতরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকবে, শান্তিতে থাকবে। যেখানে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ থাকবে। দুর্নীতির লাগাম টেনে আমরা সক্ষম হব, সেরকম একটি বাংলাদেশ চাই।’
উদ্বোধনী বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে একটা বড় বিভাজনের পথ তৈরি করার চেষ্টা চলছে, একটা গোষ্ঠী, একটা মহল ধর্মের নামে বাংলাদেশে একটা বিভাজনের পথ সৃষ্টি করতে চায়। আমরা বাংলাদেশের মানুষ অবশ্যই ধর্ম ভীরু মানুষ, অবশ্যই ধর্মকে এখানে আমরা সবাই মেনে চলি। কিন্তু ধর্মকে নিয়ে রাষ্ট্রকে বিভাজন করা বা সমাজকে বিভাজন করা আমরা এটাতে বিশ্বাস করি না। আমরা মনে করি যে, বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বাস করবে, একইভাবে থাকবে এবং ১৯৭১ সালে যে স্বাধীনতার যুদ্ধ হয়েছিল- সেই যুদ্ধের মূল যে ভিত্তি ছিল, সেটা হলো সকলের বাংলাদেশ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দেশ গড়া পরিকল্পনা শীর্ষক কমিটির আহ্বায়ক রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী-খান সোহেলের সঞ্চালনায় সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বক্তব্য রাখেন।
যারা বলছে অমুকে দেখলাম তুমুকে দেখলাম তাদেরকে ৭১ সালে মানুষ দেখেছে : তারেক জিয়া
আপডেট:

