রবিবার, এপ্রিল ১২, ২০২৬

বিএনপি উল্টো পথে হাঁটছে অতীত থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি : বদিউল আলম মজুমদার

আপডেট:

স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অধিকারের সুরক্ষাসংক্রান্ত আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে তারা অতীত থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি।বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মানবাধিকার সুরক্ষা ও স্বাধীন বিচার বিভাগ-সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে নাগরিক ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি।বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে প্রণীত সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিত করা হলো। আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না যে কেন বিএনপি এ কাজটা করল?’
অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বদিউল আলম বলেন, ‘উচ্চ আদালতে গিয়ে বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে জামিনের জন্য ধরনা দিতে দেখেছি। কী করুণ অবস্থা! অনেক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে আদালতে গিয়েও তারা প্রতিকার পাচ্ছিলেন না। এখন বর্তমান বিএনপি সরকার এই যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে, তারা অতীত থেকে অবশ্যই শিক্ষা নেয়নি।’স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদসহ বিভিন্ন আইনি কাঠামোর লঙ্ঘন। তিনি বলেন, ‘আমার বিবেচনায়, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তখন তাদের এমন আইন প্রণয়ন করা দরকার, যা বিরোধী দলে গেলে তাদের সুরক্ষা দেবে কিন্তু বিএনপি উল্টো পথে হাঁটছে। এর পরিণতি কী? আমি শঙ্কিত। আমার আশঙ্কা, এর পরিণতি নাগরিকদের জন্য ভালো হবে না এবং ক্ষমতাসীনদের জন্যও মঙ্গলজনক হবে না।’গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা এবং স্বচ্ছতা-জবাবদিহি ও অধিকারের সুরক্ষার আইনগুলো বিএনপি সরকার কেন বাতিল করছে, তা বুঝতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন বদিউল আলম মজুমদার। এটি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অভিশাপ কি না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অতীতে সে রকম দৃষ্টান্ত আছে। ১৯৭৩ সালের নির্বাচন, ২০০১ সালের নির্বাচনে কি ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রদবদল হয়েছিল? ২০০৮ সালের পর তো স্বৈরাচারের আবির্ভাব হলো। ফলে এসব সিদ্ধান্তের পরিণতি জাতি ও তাদের নিজেদের জন্য কী হবে, সে সম্পর্কে বর্তমান সংসদের সদস্য ও যারা সরকার পরিচালনা করছেন, তাদের ভাবা দরকার।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত