হাঙ্গেরিতে এক ঐতিহাসিক সংসদীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা কট্টর ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের বিদায়ঘণ্টা বাজতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এ নির্বাচনের ফলাফল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাঙ্গেরির সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। দ্য গার্ডিয়ান।ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি এ নেতা এবার তারই দল ফিদেজের সাবেক সদস্য পেটার ম্যাগিয়ারের কাছ থেকে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। প্রচারে অরবান দাবি করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধই দেশের সবচেয়ে বড় হুমকি এবং কেবল তিনিই শান্তি বজায় রাখতে পারবেন। অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন, জনসেবা খাত সংস্কার ও ইইউর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক জনসমর্থন কুড়িয়েছেন ম্যাগিয়ার ও তার দল তিসজা।ডোনাল্ড ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স ও জর্জিয়া মেলোনির মতো বিশ্বনেতারা অরবানের প্রতি জোরালো সমর্থন জানালেও জনমত জরিপে ম্যাগিয়ারের দল এগিয়ে রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অরবানের সাজানো নির্বাচনীব্যবস্থা ও ভোট কেনাবেচার অভিযোগের কারণে ফলাফল পাল্টে যেতে পারে।স্থানীয় সময় রবিবার দুপুর পর্যন্ত রেকর্ড ৩৭.৯৮ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৮ লাখ ৭৬ হাজার বেশি। ম্যাগিয়ার এ নির্বাচনকে ‘পূর্ব নাকি পশ্চিম, দুর্নীতি নাকি স্বচ্ছতা’ বেছে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী অরবান দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। অরবান হেরে গেলেও হাঙ্গেরি অবিলম্বে উদার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে পারবে কিনা, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর সংশয় রয়েছে।

