বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২৬

তাড়াইলে ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬টি আলিয়া মাদরাসায় নেই শহীদ মিনার

আপডেট:

রুহুল আমিন, নিজস্ব প্রতিনিধি:

মহান ভাষা আন্দোলনের ৭২বছর পার হলেও কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ১২ টি স্কুল ও মাদরাসায় গড়ে ওঠেনি শহীদ মিনার। সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও উপজেলার ৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৬টি আলিয়া মাদরাসায় নেই স্থায়ী শহীদ মিনার। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ফুল দিতে যায় দূরের কোনো শহীদ মিনারে। কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেটিও হয় না। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে, সেগুলো সারা বছর পড়ে থাকে অযত্ন-অবহেলায়। শহীদ মিনার নেই এরকম কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কলাগাছ, কাপড় ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেন। স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকা প্রতিষ্ঠানে ২০২৩ সালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী কলাগাছ দিয়ে বানানো অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ টিতে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে মাধ্যমিক নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৪ টি। সবটিতেই রয়েছে শহীদ মিনার। ২টি কলেজ, দুটিতেই রয়েছে শহীদ মিনার। ৬ টি এমপিওভুক্ত আলিয়া মাদরাসা ১টিতেও নেই শহীদ মিনার। এ ছাড়া ৬টি আলিয়া মাদরাসার একটিতেও নেই শহীদ মিনার।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে দেখা যায়, বেশিরভাগ শহীদ মিনার অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। অনেক শহীদ মিনারে লতা-পাতা, গাছ জন্ম নিয়েছে। শহীদ মিনারগুলোতে নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই। উপজেলার যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। আমরা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে গিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই। দুঃখের বিষয় আমাদের প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। আমাদের প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরির দাবি জানাই। উপজেলার সহিলাটী আবদুল হালিম হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসা অধ্যাক্ষ মাওলানা আইনুল ইসলাম বলেন, আমাদের মাদরাসায় জায়গার সমস্যার কারণে শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য অনেকবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জায়গা, আর্থিক সমস্যার কারণে অনেকেই শহীদ মিনার স্থাপন করতে পারেনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম গোলাম কিবরিয়া বলেন, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গঠনে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার জন্য শহীদ মিনার বাঙালি জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা। একুশের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে শহীদ মিনারের বিকল্প নেই। স্থানীয়ভাবেই এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা উচিত। আমি উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের অনুরোধ করব, যারা শহীদ মিনার তৈরি করেননি তারা অচিরেই তৈরি করবেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে এ ব্যপারে কথা বলব। শহীদ মিনার তৈরিতে আমরা সহযোগিতা করব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত