বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২৬

খাগড়াছড়িতে অস্ত্রের মুখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীসহ অপহৃত

আপডেট:

খাগড়াছড়িতে অস্ত্রের মুখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীসহ অপহৃত ৬ জনকে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা পরও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের গিরিফুল এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। অপহরণের ঘটনার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইডেট পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) দায়ী করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)। তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।অপহৃত শিক্ষার্থীরা হলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী অলড্রিন ত্রিপুরা ও মৈত্রীময় চাকমা, নাট্যকলা বিভাগের দিব্যি চাকমা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের রিশন চাকমা এবং শিক্ষার্থী লংঙি ম্রো। তারা সকলেই ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তবে অটোরিকশা চালকের পরিচয় জানা যায়নি। বিজু উৎসব পালন শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য বুধবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে কুকিছড়া থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে খাগড়াছড়ি সদরে আসার পথে গিরিফুল এলাকায় একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অটোরিকশার চালকসহ ওই পাঁচ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে যায়। সময়ের পরও অপহৃতরা উদ্ধার না হওয়ায় তাদের পরিবার-পরিজন চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে। অপহৃত দিব্যি চাকমার মা ভারতী দেওয়ান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের মেয়েসহ অপহৃতদের মুক্তি চেয়ে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে লিখেন, ‘খাগড়াছড়িতে আমার মেয়ে দিব্যি চাকমা তার সহপাঠী সহ বিজুতে গেলে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফেরার পথে খাগড়াছড়ির গিরিফুল এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছে। প্লিজ কারোর মায়ের বুক খালি না করে দোষ থাকলে, অন্যায় করলে উপযুক্ত শাস্তি দিন তবু্ও সন্তান হারানোর বেদনা যেন কারোর বুকে না লাগে। আমি হাত জোড় করছি ফিরিয়ে দিন আমাদের সন্তান দেন। ভগবান খুব কষ্ট হচ্ছে, একটার পর একটা বিপদ।এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা-বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অপহৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকেও। ঐ শাখার তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রিবেক চাকমা প্রেরীত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, ইউপিডিএফের অস্ত্রধারীরা পাঁচ শিক্ষার্থীসহ ৬ জনকে অপহরণ করেছে।বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ৬ আগস্ট রাঙ্গামাটি সদর থেকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দুই নেত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে মারধর করে তিনদিন পর মুক্তি দিয়েছিল।তবে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইউপিডিএফ। প্রসিত খীসার ইউপিডিএফের অন্যতম সংগঠক অংগ্য মারমা বলেন, এই ঘটনার সাথে ইউপিডিএফের কোনোরকম সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবী করেছেন।খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল বাতেন মৃধা জানান, ‘অপহৃতদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে। তাদের উদ্ধারে প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যদিও এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত