বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২৬

ছাত্রের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক সেই শিক্ষিকার ৩ বছরের জেল

আপডেট:

সিনসিনাটির একটি ক্যাথলিক স্কুলে কর্মরত সেই শিক্ষিকা এমিলি নাটলিকে (৪৩) তিন বছরের জেল দিয়েছে আদালত। তিনি তারই ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর তা আদালতে গড়ায়। ফলে বিচারক যে রায় দিয়েছেন তাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিস্তর আলোড়ন চলছে। ৪৩ বছর বয়সী এমিলি নাটলি সেন্ট জেভিয়ার হাই স্কুলে কাজ করতেন। সেখানেই এক ১৭ বছর বয়সী ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। এ জন্য আদালত তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ বছরের প্রবেশন দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাকে আজীবনের জন্য টিয়ার-৩ যৌন অপরাধী হিসেবে রেজিস্টার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। কারাদণ্ড ঘোষণার সময় এমিলি নাটলির মুখের অভিব্যক্তি ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, রায় ঘোষণার পর তিনি হতভম্ব হয়ে যান। তিনি আদালতে বলেন, আমি এমন একটি সীমা অতিক্রম করেছি যা কোনোভাবেই অতিক্রম করা উচিত হয়নি। আমার ভুলের কারণে আমি আমার স্বামী, পরিবার ও বন্ধুদের হারিয়েছি। তবে বিচারপতি জেনিফার ব্রাঞ্চ মন্তব্য করেন, আমি আশা করছিলাম আপনি ছাত্রটির ক্ষতির বিষয়ে আরও আন্তরিক ক্ষমা চাইবেন। কিন্তু সেটা শুনতে পাইনি।আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণের মধ্যে ছিল যৌনতায় ভরা ম্যাসেজ, নিজের নগ্ন ছবি এবং স্কুল অফিসে যৌন সম্পর্কের উল্লেখ। ছাত্রটির একটি চিঠি আদালতে পড়ে শোনান সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এলিস ডেটার্স। চিঠিতে ছাত্রটি লিখেছে, জানতাম না আমি শোষণের শিকার হচ্ছি। তিনি (এমিলি) বারবার বলতেন, আমি সম্পর্ক শেষ করলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। ছাত্রটি জানিয়েছে, সেই সম্পর্ক তার আত্মমর্যাদা, মানসিক স্থিতি এবং ভবিষ্যতের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার ভাষায়- আমি এখন কারও ওপর সহজে বিশ্বাস রাখতে পারি না। বিশেষ করে, যারা কর্তৃত্ববাদী অবস্থানে আছেন।তথ্যপ্রমাণে দেখা যায়, এমিলি নাটলি ছাত্রটিকে প্রতি মাসে ১০০ ডলার ‘ভাতা’ দিতেন। তিনি খাবার কিনে দিতেন এবং একবার পরীক্ষার উত্তরও সরবরাহ করেন। তারা ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে একাধিকবার মিলিত হন- কখনো কখনো তার স্কুলের অফিসে। ছাত্রটি যখন সম্পর্ক শেষ করতে চায়, তখন এমিলি নাটলি অনবরত মেসেজ পাঠাতে থাকেন তাকে।এপ্রিল মাসে এমিলি নাটলি আদালতে দুইটি যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি ক্ষমা চাইছি না, কারণ আমি এখনো ক্ষমার যোগ্য হয়ে উঠিনি। তার আইনজীবীরা বলেন, নাটলি মানসিক ও মাদক সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তিনি ইতিমধ্যে অনেক কিছু হারিয়েছেন।নাটলির স্বামী জনাথন নাটলি মামলার পরপরই ডিভোর্সের আবেদন করেন। স্ত্রী নাটলি পাল্টা অভিযোগে বলেন, তার স্বামী ‘চরম অবহেলা ও নিষ্ঠুরতা’ করেছেন। নাটলির তিন সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ওই ছাত্রের কাছাকাছি বয়সের। স্কুল প্রশাসন জানায়, এটি একটি ‘অবস্থানগত’ ঘটনা এবং তারা তদন্তের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করেছে। একইসাথে অনেক মানবাধিকার সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে- কীভাবে একজন শিক্ষিকা, যার দায়িত্ব ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ছাত্রদের সহযোগিতা করা, তিনি নিজেই এমন শোষক চরিত্রে পরিণত হলেন?

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত