#কালবেলায়_সমকাল
চাঁদাবাজিতে হাতেনাতে ধরা খাওয়া ‘জুলাইযোদ্ধা’ আবদুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদকে নিয়ে আলোচনা চলছে। এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে তারাও, যারা কিছুদিন আগেও জুলাইয়ের নামে অনাচারকেও বৈধতা দিচ্ছিল। তারা আওয়ামী লীগের যে কারো বাড়িতে মবসন্ত্রাস চালানোকেও জুলাইঅধিকার মনে করছিলেন। ওই সময়ের প্রতিটির ঘটনার সঙ্গে চাঁদাবাজির বিষয় যুক্ত থাকলেও একে তারা বৈধতা দিত ফ্যা/সি/স্ট ধরিয়ে দেওয়ার নামে অভিযান হিসেবে।ছাত্রের পরিচয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি অভিযান-লুটপাট হলেও সেটার পক্ষে কথা বলার লোকের অভাব ছিল না দেশে। কেবল দুর্বৃত্ত মানসিকতার ফেসবুকবাসীই নয়, সরকারও একে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছিল।অদ্য দেখুন জুলাইযোদ্ধা রিয়াদের অবস্থা। সে দলবল নিয়ে শনিবার গেছে যার বাড়িতে চাঁদার দ্বিতীয় কিস্তি আদায় করতে, তিনিও আওয়ামী লীগ নেত্রী, এবং সাবেক সংসদ সদস্য। আগে গিয়ে তারা নিয়ে এসেছিল ১০ লাখ টাকা, এবং নাকি গেছে চাঁদার বাকি অংশ এবং স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে আসতে।খেয়াল করুন, এই রিয়াদদের এই অবস্থায় নিয়ে এসেছেন কিন্তু আপনারাই। চাঁদাবাজি, মানুষকে অপদস্থ করা, মারধর করা, প্রাণ হরণ করা সবকিছুকেই আপনারা বৈধতা দিয়েছেন। আপনাদের থেকে পাওয়া এই বৈধতা রিয়াদদের এই অবস্থায় নিয়ে এসেছে। জুলাইযোদ্ধা ও উচ্চপদস্থ চাঁদাবাজ আবদুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদের সাংগঠনিক ঠিকানা রূপায়ন টাওয়ার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছা)। পরিচিতি ও উচ্চপদের নাম যুগ্ম আহবায়ক, বৈছা এবং সদস্য, বাগছাস (বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ)।পিও ইমাম ও আহবায়ক নাহিদ ইসলামের সাথে তার একান্ত ছবি আছে; একান্ত ছবি আছে পিও উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সাথে; ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের আরও অনেক ছবি আছে তার অনেকের সাথে। কখনো এটা প্রবল আলিঙ্গনে, কখনো বা দূরত্ব বজায় রেখে। এই ছবিগুলো এবং উল্লিখিত ও সমমনাদের সঙ্গে তার দহরমমহরম আর আপনাদের দেওয়া বৈধতায় সে স্বাভাবিকভাবেই বেপরোয়া। তাকে এই অবস্থায় নিয়ে এসেছেন কিন্তু আপনারাই। কারণ যখনই সে এবং একইপথের পথিকেরা অন্যায় করেছে, তখনই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন আপনারাই।চাঁদাবাজিতে হাতেনাতে ধরা খাওয়ার পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জুলাইযোদ্ধা হিসেবে সে ফিরবে একটা সময়ে তার জায়গায়। এটা কেবল সময়ের অপেক্ষা। তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে আপনাদের অনেকেই আগ্রহীও হয়ে ওঠতে পারেন। রিয়াদের মতো তরুণেরা কেন এমন হলো, এটা কি ভেবেছেন কখনো? ভাবেননি। অথচ তাদের নিয়ে ভাবনা জরুরি ছিল। যে তরুণেরা হঠাৎ ক্ষমতা পেয়ে দায়িত্বশীল হতে পারেনি, তাদেরকে থামতে বলার জরুরি ছিল, এটা আপনাদের সবার দায়িত্ব ছিল। এই দায়িত্ব আপনারা পালন করেননি। ফলে এই তরুণদের নষ্ট হয়ে যাওয়ার দায় আপনাদের কেউ এড়াতে পারেন না। জুলাইযোদ্ধা’ আবদুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে হয়ত ছাড়িয়েও নেবে তার ‘ইমাম’। ফলে আরও নষ্ট হবে সে; একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে রিয়াদদের মতো কয়েকশ তরুণ। রিয়াদকে সুরক্ষা দিতে লোকজন আছে দেশে। তাকে সুরক্ষায় তাই এখন আওয়াজ ওঠতে পারে ফ্যা/সি/স্ট এমপি শাম্মী আহমেদ কেন গ্রেপ্তার হননি? আওয়াজ ওঠতে পারে ফ্যা/সি/স্টের স্বামীও ফ্যা/সি/স্ট, সে কীভাবে বাইরে থাকে? আমি নিশ্চিত এইধরনের আওয়াজ যখনই ওঠবে, তখনই হুক্কাহুয়া বলে আপনারাও দলে দলে যোগ দেবেন এই ফক্স নয়েজে…!
©কবির য়াহমদ


