বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

ঐতিহ্যের রোম ও বর্তমানের বাস্তবতা—একজন অভিবাসীর চোখে

আপডেট:

প্রধান সম্পাদক
আনোয়ার মোরশেদ বিটু মজুমদার

ঐতিহ্যের রোম ও বর্তমানের বাস্তবতা—একজন অভিবাসীর চোখে
​প্রাচীন সভ্যতার লীলাভূমি রোম কি তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে? ২০০৪ সালে যখন ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে ইতালির মাটিতে পা রাখি, তখন বুকভরা প্রত্যাশা থাকলেও রোমের জরাজীর্ণ রূপ আমাকে বিভ্রান্ত করেছিল। যে শহরটি হওয়ার কথা ছিল ইউরোপের প্রাণকেন্দ্র, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর অব্যবস্থাপনায় তা যেন ম্লান হয়ে গিয়েছিল। সেই শুরু থেকে আজ অবধি রোমের বিবর্তন এবং বর্তমান মেলোনি সরকারের কঠোর কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নিয়ে পর্যালোচনার সময় এসেছে।
​লড়াই ও সংগ্রামের দিনলিপি
​২০০৬ সাল থেকে সাংবাদিকতার মাসিক স্বদেশ বিদেশ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি হিসাবে পরবর্তীতে দৈনিক স্বদেশ বিদেশ এর সিটি এডিটর মাধ্যমে যখন আমি রোমের সমস্যা এবং অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন থেকেই আমাকে নানামুখী বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন থেকে শুরু করে আইনি লড়াই—প্রতিটি পদক্ষেপে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং পুলিশের অসহযোগিতা ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে ইংরেজি ভাষায় পারদর্শিতার কারণে দোভাষী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, কীভাবে সাধারণ মানুষ আইনি মারপ্যাঁচে আটকে যায়। আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি; সঠিক তথ্য ও কারণ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে।
​অভিবাসন ও মাফিয়াতন্ত্রের কালো ছায়া
​ইতালিতে অভিবাসন প্রক্রিয়ার পেছনে থাকা ‘দালাল সিন্ডিকেট’ বা মাফিয়াদের প্রভাব অনস্বীকার্য। এদের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে আমাকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে অনেক মূল্য চুকাতে হয়েছে। ইতালির পুলিশি ও প্রশাসনিক কাঠামোর রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাফিয়াদের যে প্রভাব, তা দূর করা না গেলে প্রকৃত অভিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করা অসম্ভব।বিশেষ প্রতিনিধি ‘স্বদেশে বিদেশ’ বা পরবর্তী সময়ে সম্পাদক ‘দৈনিক সকালের কণ্ঠ’ প্রকাশের যাত্রায় স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহলের বাধা প্রমাণ করে যে, সত্য তুলে ধরা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।
​মেলোনি সরকার ও রোমের ভবিষ্যৎ
​বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কিছু কড়া আইন ও দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রোমকে ইউরোপের প্রকৃত রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যে স্বপ্ন তিনি দেখছেন, তা একজন রোমপ্রেমী হিসেবে আমাকে আশাবাদী করে। মেয়র ভেলত্রোনী শহরটিকে সাজানোর যে চেষ্টা শুরু করেছিলেন, মেলোনির দৃঢ় নেতৃত্বে তার পূর্ণতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অবৈধ অভিবাসন ও মাফিয়া দমনে তার কঠোর অবস্থান বিতর্কিত হলেও, ইতালির দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলার জন্য এটি জরুরি বলে আমি মনে করি।
​”রোম কেবল ইতালির নয়, সমগ্র ইউরোপের রাজধানী হওয়ার যোগ্যতা রাখে—এই সত্যটি বাস্তবায়নের সময় এসেছে।”
​উপসংহার
​বাংলাদেশ থেকে আজ যখন রোমের দিকে তাকাই, তখন এক পরিবর্তনের আভাস পাই। প্রাচীন এই শহরটি তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাক, এটাই কাম্য। সাংবাদিক হিসেবে আমার কলম সবসময় অন্যায় ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধেই সোচ্চার ছিল। রোমের স্টাম্পা রোমানোসহ আমার যে সকল সাংবাদিক বন্ধু ও সহকর্মী এই দীর্ঘ যাত্রায় পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, রোম আবার তার স্বমহিমায় ফিরবে, যেখানে বিচারহীনতা নয় বরং আইন ও ঐতিহ্যের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত