১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিশাল বিশাল ব্যানার,ফেস্টুন টানানো হয়েছে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায়।এসব ব্যানার পোস্টারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি,বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের ছবিও রয়েছে। কাশিমপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ তার ব্যানার ফেস্টুনে অন্য শহীদদের ছবি না দিলেও বড় নেতাদের আনুকূল্য পাওয়ার জন্য বড় অংশ জুড়ে রেখেছে তাদের প্রায় ৭/৮ জনের ছবি।শোক দিবসের ব্যানারে যা বড্ড বেমানান।১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের কোনাবাড়ী,চৌরাস্তা,কাশিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ১৫ আগস্টের শত শত ব্যানার,ফেস্টুন। কিন্তু ওই ব্যানার,ফেস্টুনগুলোতে ছবি এমনভাবে স্থান পেয়েছে যে,কে শহীদ আর কে জীবিত,অনেক ক্ষেত্রে তা বোঝা কষ্টকর। এ জাতীয় আত্মপ্রচারণার`শ্রদ্ধাঞ্জলি`ঝুলতে দেখা গেছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান,পাড়া-মহল্লার অলি-গলি,দোকান,দেয়াল,গাছ সর্বস্থানেই।এসব প্রচার-প্রচারণার অনেকাংশেই বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার ছবি এক কোণায় ছোট পরিসরে স্থান পেয়েছে। প্রচারণাকারী নেতার জায়গা অধিকাংশ জুড়ে। এমনকি আত্মপ্রচারের এই সুযোগ হাতছাড়া করেননি কর্মীরাও।দলীয় নেতাকর্মীদের আত্মপ্রচারণা ঠেকাতে আওয়ামীলীগের পক্ষথেকে ছবি ব্যবহারের ওপর সংযত হতে একটি নির্দেশনা জারি করা আছে।যা গত ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া নির্দেশনায় বলা রয়েছে‘পোস্টার-ব্যানার,বিলবোর্ড ও লিফলেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ছাড়া কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না।’ সেই নির্দেশনাকে অমান্য করেই শোক দিবসের ফেস্টুন তৈরী করেছেন কাশিমপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাক আহমেদসহ অধিকাংশ নেতা কর্মীরা। তার ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যতিত আরো আছে ৬/৭ জনের ছবি।শোক দিবসকে ছাপিয়ে বড় ভাইদের আনুকুল্য পাওয়াই এসবের মূখ্য বলে অনেকের ধারনা।এছাড়াও ১লা বৈশাখ,বিজয় দিবস,স্বাধীনতা দিবসগুলো এলেই আত্মপ্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে পাড়া-মহল্লার ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। আগস্ট মাস শোকের মাস হওয়ায় এ মাসে আরো বেশি করে এগুলো চোখে পড়ে।এদিকে বড় ভাইয়ের হাত ধরে হঠাৎ করে নেতা বনে যাওয়ারাই দলের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে শোক দিবসেও ছাড়েনি নিজের প্রচারণা।এঘটনায় কাশিমপুর থানা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা প্রশ্ন রাখেন,নেতাকর্মীরা কি শোক দিবসের মাহাত্ম্য অনুধাবন করতে পারেননি,নাকি নিছক প্রচারের জন্য এই আয়োজন যেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে শোক দিবসকেও।এবিষয়ে কাশিমপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মীর আসাদুজ্জামান তুলা বলেন,এটা অনেকেই করে আসছে,তবে আমাদের দল থেকে এভাবে ছবি দেয়া নিষেধ আছে।গত কয়েকদিন সরজমিনে গিয়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়,জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এসব এলাকায় আত্মপ্রচারের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীগন।এসব প্রচারণায় ১৫ আগস্টের শহীদদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে যাদের সৌজন্যে ঐসব ফেস্টুন টানানো হয়েছে সেই নেতাদের ও তার বড় ভাইয়ের ছবি।

