রুহুল আমিন, নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৫ তম শুভ জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উৎযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালন করেছে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
রবিবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০ টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৫ তম শুভ জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস পালন উপলক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলমাছ হোসেন এর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, রোগিদের মাঝে উন্নতমানের খাবার বিতরন এবং বাদ যোহর জামে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ ছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহির্বিভাগে বিনামুল্যে রোগিদের চিকিৎসা প্রদান ও বিনামুল্যে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ডা. সারোয়ার হোসেন (আরএমও), ডা. তাসনিমুর রহমান, ডা. মঞ্জুরুলল ইসলাম, ডা. ফিরোজ মিয়া ও ডা. আফসারী জামান সহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
আলোচনা সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলমাছ হোসেন বলেন, আজ ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস। যদিও এই দিনটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন হিসেবেই বাঙালি জাতির কাছে বেশি সুপরিচিত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৫ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উৎযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। জানা গেছে, শিশু দিবস পালনকারী প্রথম দেশ তুরস্ক। তুরস্কের অধিবাসীরা শিশু দিবস প্রথম পালন করেন ১৯২০ সালের ২৩ এপ্রিল। তবে শিশু দিবস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় পালিত হয়। সারা বিশ্বে ‘বিশ্ব শিশু দিবস’ পালন করা হয় ২০ নভেম্বর এবং ‘আন্তর্জাতিক শিশু দিবস’ পালিত হয় ১ জুন। আন্তর্জাতিকভাবে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ পালন করা হয়। আন্তর্জাতিক বা বিশ্ব শিশু দিবস পালন হলেও জাতীয় শিশু দিবস ছিল না। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রীয় ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চকে জাতীয় শিশু দিবস ঘোষণা করে। ১৯৯৭ সাল থেকেই দিবসটি পালন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এ দিনটিকে সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়। তিনি আরও বলেন, শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর দরদ ছিল অপরিসীম। শিশুদের খুবই ভালোবাসতেন তিনি। তার জন্মদিনে তিনি শিশুদের সঙ্গে কাটাতে পছন্দ করতেন। ওইদিন শিশুরা দলবেঁধে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে যেত। এসব সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরপরেই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে শিশুদের জন্য উৎসর্গ করে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশকে শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাসভূমিতে পরিণত করার শপথ নিতেই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বাংলাদেশে পালিত হয় জাতীয় শিশু দিবস।


