বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৯, ২০২৬

ছাগলকান্ডে লাকি-মতিউর এর ভাগ্যের লিখন যায়না খণ্ডন 

আপডেট:

আশিকুর রহমান:বিশেষ প্রতিনিধি সকালের কন্ঠ

ছাগলকাণ্ডে আলোচিত রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও তাঁর প্রথম স্ত্রী নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ লাকিকে যেন কোনভাবেই পিছু ছাড়ছে না ভাগ্য। একের পর এক দুঃসংবাদে রীতিমতো মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন তিনি। তাঁদের এসব খবরে স্থানীয় এলাকাবাসীকে একছাগলের কারণে লাকি-মতিউর এর ভাগ্যের লিখন যায়না খন্ডন বলে গুঞ্জন করতে শুনা যায়। এরপর তিনি নিজেকে আড়াল করতে চলে যান আত্মগোপনে। লাকির স্বামী মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে হুংকার দিয়ে বলেছিলেন, ইফাত নামে আমার কোনো ছেলে নেই। এমনকি আত্মীয় বা পরিচিতও নন। আমার একমাত্র ছেলের নাম তৌফিকুর রহমান। একটি গোষ্ঠী আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। সামাজিক মাধ্যমে আমার ছবি ও নাম ব্যবহার করায় আমি বিব্রত। আমি অবশ্যই আইনি পদক্ষেপে যাব। তাঁর এ হুংকারে বের হয়ে আসে থলের বিড়াল। তাদের দূর্নীতির খবর একের পর এক জনসম্মুখে প্রকাশিত হলে কোনঠাসা হয়ে পড়েন লাকি। এসব খবরে দেশব্যাপী আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হলে লাকির স্বামী মতিউর রহমানকে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে প্রত্যাহার করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করেন। একই সঙ্গে তাকে সোনালী ব্যাংকের পরিচালক পদ থেকেও অপসারণ করা হয়। গত ৩০ জুন রবিবার লাকি-মতিউর দম্পতির সম্পদের তথ্য চেয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়াও দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে মতিউর রহমান, তার স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকি এবং ছেলে আহম্মেদ তৌফিকুর রহমান অর্নবের বিদেশযাত্রাা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। এদিকে লাকি-মতিউর দম্পতির নামে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত ১ হাজার ১৯ শতক জমি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই আদেশে তাদের নামে থাকা আরও চারটি ফ্ল্যাটও ক্রোক করতে বলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এই আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, ক্রোক হওয়া সম্পত্তির মধ্যে বরিশালের মুলাদী উপজেলায় মতিউরের নামে ১১৪ শতাংশ জমি, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মরজাল ইউনিয়নের মরজাল মৌজায় মতিউরের প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে ৫২২.৫২ শতাংশ জমি, তাদের ছেলে আহমেদ তৌফিক অর্ণবের নামে ২৭৫.৮৭৫ শতাংশ জমি ও মেয়ে ফারহানা রহমান ঈপ্সিতার নামে ১০৬.৫৬ শতাংশ জমি। চারটি ফ্ল্যাটের মধ্যে মতিউরের স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে বসুন্ধরায় একটি ফ্ল্যাট, দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলীর নামে জিগাতলায় একটি ও বসুন্ধরা আবাসিকে একটি এবং ফারহানা রহমান ঈপ্সিতার নামে বসুন্ধরা আবাসিকে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব ঘটনা আড়াল করতে টানা ১৪দিন আত্মগোপনে থাকা লাকি তাঁর অনুসারী ও রায়পুরার কিছু সাংবাদিকদের পরামর্শে গত ২৭ জুন বৃহস্পতিবার জনসম্মুখে আসেন। এসেই তিনি সাংবাদিকদেরকে নিয়ে মন্তব্য করে আবার আলোচনায় আসেন। তাঁর এ মন্তব্য দেশের প্রথম সারির পত্র-পত্রিকা ও ইলেকট্রিকস মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে আবারও তিনি আসেন আলোচনায়। এনিয়ে দেশব্যাপী সাংবাদিকদের মাঝে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।তাঁর বেফাঁস মন্তব্য নিয়ে সাংবাদিক সমাজ যখন মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালনকালে একসপ্তাহ পর গত বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) তিনি স্থানীয় গুটিকয়েক সাংবাদিক দিয়ে তার এ মন্তব্য ভূল তথ্য ও মিথ্যা বলে ভিডিও বক্তব্য জনসম্মুখে প্রকাশ করেন। তাঁর এই ভিডিও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সমাজে দেখা দেয় হতাশ। এবিষয়ে জানতে জৈষ্ঠ্য এক সাংবাদিক বলেন, সাংবাদিকদের নিয়ে বাঁজে মন্তব্য করা লাকি দীর্ঘ ৭দিন পর মিডিয়া সামনে এসে বলেন আমি সাংবাদিকদের নিয়ে এমন ধরনের মন্তব্য করেনি। এটা ভূল তথ্য ছিল। তাঁর একথা আমরা ধরে নিলাম সত্য। কিন্তু কথা হলো সাংবাদিকরা যখন কোনো সংবাদ প্রকাশ করেন তখন তাঁর প্রাপ্ত তথ্য সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করেই প্রকাশ করা হয়। তারপরও যদি তিনি মনে করেন তাঁর এ সংবাদ বা তথ্যে ভূল রয়েছে, তাহলে তিনি আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এবিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে পারতেন। কিন্তু দেখা গেলো তা উল্টো। দীর্ঘ ৭দিন পর মুখ খোলা এটা অত্যন্ত হাস্যকর। এসংবাদের বিষয়ে ওনার যদি কোনো বলার থাকতো তাহলে তিনি পরের দিনই বলতে পারতেন। এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন ৭দিন পর কেন মিডিয়ার সামনে এসে বলতে হয়। তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় লাকি ম্যাডামকে পিছন দিক দিয়ে কেও কল-কাঠি নাড়াচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত