প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে জীবনগুলো ঝরে গেল, ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা গুলিবিদ্ধ। এই গুলিগুলো কিভাবে লাগল? বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘জাতীয় শোক দিবস’ স্মরণে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। হত্যাচেষ্টাসহ নানা প্রতিকূলতার পথ পেরিয়ে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, সরকার গঠন করার একটাই লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা এবং সেই সঙ্গে জাতির পিতার হত্যার বিচার করা। সেই বিচারহীনতার যে একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছিল- আবার সেই আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা।তিনি বলেন, আমরা জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার করেছি। যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার করেছি। এটা করতে গিয়ে সেখানেও অনেক হুমকি-ধমকি সহ্য করতে হয়েছে কিন্তু আমরা করতে পেরেছি, এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা। কারণ লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। এই শহীদের রক্তের মূল্য আমাদের দিতে হয়েছে। তাই আমরা এই খুনিদের বিচার করেছি।শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার হত্যার বিচার আমরা করতে পেরেছি। আমার মনে হয়, এর থেকে বড় পাওয়া বাঙালি জাতির জন্য আর কিছু না যে, একটা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে; মানুষ যাতে ন্যায় পায়, সেই ন্যায়বিচারের পথটা আমরা সহজ করে দিয়েছিলাম।বাংলাদেশ আজকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পর সেই ২১ বছর এবং তারপর আবার ২০০১ থেকে ২০০৮, এই ২৯ বছর কিন্তু বাংলাদেশ এক ইঞ্চি সামনের দিকে এগোতে পারেনি। আওয়ামী লীগ যখন সরকারে এসেছে তখনই এই বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।তিনি বলেন, একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে উঠবে এবং যে জাতি হবে অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্নত জাতি। আমরা যখন সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি, পাশাপাশি আমরা কী দেখলাম? ওই পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, ওগুলো এখনো ছাড়েনি। সেখানে ধর্মান্ধতা এবং কূপমণ্ডুকতা দিয়ে একটা শ্রেণি কিন্তু ধীরে ধীরে সকলের অজান্তেই গড়ে উঠেছে। যারা ওই যুদ্ধাপরাধীদের দোসর ছিল। দেশে গণহত্যা, লুটপাট, নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এসমস্ত কাজের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সঙ্গে দোসর হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলেছে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আর সেই আঘাতটা আপনারা দেখলেন কিছু দিন আগে। কোটা আন্দোলনের নামে যখন সব রাস্তায় বেরিয়ে এলো, আমরা তাদের বললাম, কোটা আন্দোলন হয়েছিল ২০১৮ সালে। আমরা এটা মেনে নিয়ে বাতিল করে দিয়েছিলাম কোটা পদ্ধতি; কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা মামলা করল, সেখানে আমার করা প্রজ্ঞাপনটা বাতিল করে দিল হাইকোর্ট। আবার কোটা ফিরে আসলো। সঙ্গে সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাপিলেট ডিভিশনে আপিল করা হলো। আপিল করা হলে হাইকোর্টের রায়টা সাসপেন্ড করে দেওয়া হলো। কাজেই আবার সেখানে কোটা পদ্ধতি বাতিল হয়ে গেল এবং পূর্ণাঙ্গ শুনানির তারিখও দেওয়া হলো। ৫ জুন এই রায় হয়েছিল। পুরো জুন মাস চলে গেল। জুলাই মাসের ৭ তারিখ থেকে হঠাৎ দেখি, আবার কোটার জন্য আন্দোলন- যখন কোটা পদ্ধতি নাই।

