সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬

বেক্সিমকোর সালমান এফ রহমান ও ওমেরা পেট্রোলিয়ামের কর্ণধার আজম জে চৌধুরীর যুগ শেষ

আপডেট:

এলপিজি খাতে দীর্ঘদিন প্রভাব খাটিয়ে আসা বেক্সিমকোর সালমান এফ রহমান ও ওমেরা পেট্রোলিয়ামের কর্ণধার আজম জে চৌধুরীর যুগ শেষ হতে চলেছে। ৫ আগস্টের পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন বেক্সিমকো এলপিজি লিমিটেডের মালিক আলোচিত ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান। ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে তারা দুজনে মিলে বসুন্ধরা গ্রুপকে সঙ্গে নিয়ে গঠন করেছিলেন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়েব), যার সর্বশেষ সভাপতি আজম জে চৌধুরী। তবে এলপিজি আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করে সরে গিয়েছেন তিনিও। আগামীকাল মঙ্গলবার লোয়েবের নির্বাহী কমিটির সভায় নতুন সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করা হবে।সূত্র জানায়, আগামীকাল মঙ্গলবার লোয়েবের ৩০তম নির্বাহী কমিটির সভায় সদস্যদের মৌখিক ভোটে নতুন সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন বিএম এনার্জি বিডি লিমিটেডের মোস্তাফিজুর রহমান, ডেলটা এলপিজি লিমিটেডের মোহাম্মদ আমিরুল হক এবং জেএমআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস লিমিটেডের আবদুর রাজ্জাক।২০১৫ সালের আগে সালমান এফ রহমান এলপিজি খাতে যুক্ত ছিলেন না। পরবর্তীতে বেক্সিমকো এলপি গ্যাস লিমিটেডের কার্যক্রম শুরু হয়। ব্যবসায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে সালমান এফ রহমান ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েলের সাবেক কর্মকর্তা মৃণাল রায়কে নিয়োগ দেন। তার পরিকল্পনা ও আজম জে চৌধুরীর বাস্তবায়নে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়েব) গঠন করা হয়। এই সংগঠনের নেতৃত্বে আজম জে চৌধুরী এবং সহ-সভাপতির পদে সালমান এফ রহমানের ছেলে সায়ান এফ রহমান ছিলেন। বসুন্ধরা গ্রুপও এই সংগঠনের কার্যক্রমে সমর্থন জানায়। ব্যবসায়ীদের মৌখিকভাবে সংগঠনের সদস্য হতে বাধ্য করা হতো। ২০১৯ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করে এই সংগঠনের সদস্য হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। তবে সংগঠনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবলম্বন না করে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো মাত্র কয়েকজনের মধ্যে। আজম জে চৌধুরী এলপিজি আমদানি করতেন, তার কাছ থেকেই বাকি সবাইকে কিনতে বাধ্য করা হয়। অন্যদিকে দেশে উৎপাদিত সিলিন্ডারের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াত বাতিল করে তৈরি সিলিন্ডার আমদানিতে রেয়াত দেয় সরকার। সেই সিলিন্ডার আমদানি করত কেবল বেক্সিমকো গ্রুপ।৫ আগস্ট সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর ব্যবসায়ীরা নিজেরা এলপিজি আমদানি শুরু করেন। আজম জে চৌধুরী বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ করলেও তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে পরিচালনা কমিটির নির্বাচন আয়োজনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। গত ১৯ নভেম্বর ১২ জন ব্যবসায়ী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। লোয়েবের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আহসানুল জাব্বার জানান, আগামীকাল নির্বাহী কমিটির সভায় সভাপতির পদত্যাগসহ মোট চারটি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত