ফেনীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সদর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী দীপ্ত দাস, যিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প তদারকির নামে নিজেই ঠিকাদারের ভূমিকায় কাজ করছেন বলে জানা গেছে। মঠবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শৌচাগার নির্মাণের তিন লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ দেওয়ার পরেও অনিয়মের কারণে শৌচাগারটি ব্যবহার করতে পারছে না ছাত্রীরা।অনুসন্ধানে উঠে আসে—দীপ্ত দাস সদ্য পলাতক উপজেলা চেয়ারম্যান শুসেন শীলের ঘনিষ্ঠজন। শুসেন শীল ও তার ভাতিজা ডালিম শীল পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের ঠিকাদারি কাজের দায়িত্ব নিচ্ছেন দীপ্ত দাস নিজে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে অদৃশ্য ইঙ্গিতে তিনি সহকারী প্রকৌশলী হয়েও উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
সদর উপজেলার কালিদহ ও লেমুয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর সড়কে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের নির্মাণে নানা অনিয়ম রয়েছে। প্রকল্পের স্টিমেট অনুযায়ী, যেখানে ২ ফুট প্রশস্ত ও ২২ ইঞ্চি গভীরতা থাকার কথা, সেখানে বাস্তবে পাওয়া গেছে ১৪ ইঞ্চি প্রশস্ত ও ১৭ ইঞ্চি গভীরতা। এবং উক্ত প্রকল্পে সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও বিশেষ আবেদন দেখিয়ে পুনরায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীপ্ত বাবু এসব অনিয়মের বিষয় স্বীকার করলেও কাজ বন্ধ না করে বরং এক বিএনপি নেতার মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালনা করে চলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এইসব অনিয়মে সহায়তা করছেন এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহমুদ আল ফারুক। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী দীপ্ত দাস জানিয়েছেন, দৌলতপুর সড়কের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

