বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২৬

চায়না জাল ও কারেন্ট জালের কারণে বিলগুলোতে মাছের আকাল

আপডেট:

সারাদেশে অভিযান চলিয়ে মরন ফাঁদ চায়না জাল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না মৎস্যসম্পদ । আমদানি কারক চোরাই ভাবে আসা কারেন্ট জাল বিক্রয় জীব বৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, দূর্নীতিবাজ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য। সারাদেশে মৎস্য সাপ্তাহ পালিত হয় কিন্তু কোন কাজে আসেনা এই মৎস্য সাপ্তাহ পালন।সিংড়ায় অভিযানেও কমছে না নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার। তিন মাসে ৪১ অভিযানে অর্ধকোটি টাকার চায়না জাল পুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। গত মে থেকে মধ্য আগস্ট পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়। মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, চলনবিলে ১৫১ প্রজাতির মাছের আবাসস্থল ছিল। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে ১০ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে। চায়না দুয়ারী, কারেন্টসহ অবৈধ জাল পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং দেশি মাছের জন্য হুমকিস্বরূপ। এরই মধ্যে মৎস্য বিভাগ প্রশাসনের সহযোগিতায় চলনবিলে গত তিন মাসে ৪১ অভিযান চালিয়ে অর্ধকোটি টাকা দামের চায়না জাল পুড়িয়ে দিয়েছে। অভিযানে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করাসহ সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাছ রক্ষায় চায়না দুয়ারীসহ অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, মৎস্যভাণ্ডারখ্যাত চলনবিলের মাছ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে বারবার অভিযান চালালেও অবৈধ মৎস্য শিকারি এবং ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমছে না।
জানা গেছে, ৮ আগস্ট ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বেড়াবাড়ি, ফকিরপাড়া জোলা, তিশিখালীসহ চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ছয় লাখ টাকা দামের দেড় শতাধিক নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে মৎস্য অধিদপ্তর। জালগুলো উপজেলার চলনবিলসংলগ্ন এলাকায় পুড়িয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘমেয়াদি এই অভিযানে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী, কারেন্ট ও সৌতি জাল ছাড়াও বানা দিয়ে তৈরি বেড়াসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়। প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম, উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেনসহ মৎস্য অধিদপ্তরের লোকজন এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি টিমও অভিযানে উপস্থিত ছিল।
সিংড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, চলনবিলে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমে ভরপুর বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ দেখা যাচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি সেই মাছগুলো চায়না দুয়ারী জাল ফেলে নিধন করছে। মাছের প্রজনন ঘটাতেই নিয়মিত প্রশাসনের অভিযান চালানো হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল বিক্রি না করতে সচেতন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত