কলমে ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তাং ঃ ২২.১২.২০২৩
আমি, আমার গুরু, রবি নজরুল মাইকেল যত কবি
কেউ আঁকতে পারেন নাই বাবা নামক বটবৃক্ষের ছবি!
দুনিয়ারী জীবনের প্রথম পথপ্রদর্শক “বাবা”
সমস্ত সংসার এক বস্তায় কাঁধে নিয়ে চলা লোকটা, “বাবা”!
মহাকাব্যের শেষ পাতার নাম বাবা!
সংসার জঠরের ক্ষুধা মিটাতে কেজি কেজি স্বেদ ঝরানো ব্যক্তিটি “বাবা”!
পিপাসিত তেষ্টায় বুকফাটা আত্মত্যাগীর প্রতিশব্দ “বাবা”
সেই বাবা যখন যৌবন হারিয়ে সঙ্গী বিহীন একাকিত্বে
জীবন সৈকতে সাগরের উর্মিমালার ঢেউ গোনে —
বারান্দার এককোণে পড়ে থাকাও সন্তানের সম্মানহানির কারনে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতে কঠোর হয় —
আজ বার্ধক্যে জুবুথুবু স্তব্ধ ভীত বিপন্ন বাবাকে
ঘর ছাড়তে উদ্যাত সন্তানের থাবা —
সেই অসহায় বাবা কয় করজোড়ে,
আমায় বের করিস না ঘর থেকে ওরে !
সারাজীবন তোদের জন্য দিয়েছি শ্রম
আমার পিতৃপুরুষেরা জন্ম নিয়েছিলো এই গ্রাম!
আমার বাবা-মার কবর আজও চায় দোয়া
আজ পঞ্চাশ বছর তারা এখানে কবরে শোয়া!
একদিন আমিওতো তোর মত সবুজ ছিলাম
আকুতি আমার, পাঠাস না আমায় শহরে বৃদ্ধাশ্রম!
ধ্রুপদী আঙ্গিনায় পড়ে আছি পরিচর্যা হীন
বৌমার কাপড় ধোয়া থেকে সব করি, দুমুঠো ভাতের চুকাই ঋণ!
পরের জমিতে কামলা দিয়া লেখাপড়া শিখাইয়া পাঠালাম প্রবাস
আজ শহরে বিলাসী ফ্ল্যাটে গড়েছো বিবি বাচ্চার আবাস,
অবহেলা অযত্নে পড়ে থাকি ফ্ল্যাটের বারান্দার কোণে
ওয়াক্তে এক প্লেট ভাত পাই, জল লবন আছে কিনা সে কথা কে শোনে?
আমাকে তাড়াস না বাবা, তোর সোনা মুখ দেখার ইচ্ছে রোজ
আমার বসত বারান্দায় তুই নিস বা না নিস কোন খোঁজ!
বিলাপ করে বৃদ্ধ কয়, তোর মার কবরের পাশে শুতে দে আমায়
আয়ু আমার খুব বেশী নাই, এই কয়টা দিন থাকতে দে
সময়!
রোজ রাতে তোর মা এসে কয়, চলে আসো থেকে কাজ নাই আর
একা পিতা সন্তানকে “মানুষ” করো নাই করেছো শুধু অফিসার!!



