কলমে ঃ দেবিকা রানী হালদার।
তাং ঃ ০৪.০১.২০২৪
ওড়না যেদিন উঠলো বুকে
নাচলাম খানিক মহা সুখে,
ভাবলাম আমি হয়েছি বড়ো
বলবে না কেউ ছালাম করো!
বার-বার দেখি আয়নায় যেয়ে
কতটুকু বড় হলাম আমি মেয়ে,
নাদুস-নুদুস হচ্ছি গায়পায়
পোলাপান তাকায় গেলে রাস্তায়!
মনে মনে একটু পড়বো টাঙ্গাইল শাড়ি,
স্কুলে যতো ছেলে বন্ধু
সবাই তাকায় যেন অন্ধ!
কি খোঁজে আমার সারা গা দেখে
নাকি ব্লাকবোর্ডের গুঁজেছি ময়ূর পালক
তাকায় ছেলেরা ফেলে না পলক!
প্রাইমারি ছেড়ে হাইস্কুল
গাঁদা ফুল ছেড়ে কুড়াই বকুল!
গাথি মালা গাই গুন-গুন গান
মনে হয় গানে আছে প্রান !
পাশ দিয়া ভাবলাম যাবো কলেজে
মায় কয় আয় দেই একটু সেজে!
কেন মা এতো সাজা সাজি
মেম্বরের ছেলে তোরে বিয়ে করতে রাজি!
আকাশ ভেঙ্গে পড়লো মাথায়
আমার কান্নাকাটি কার কি আসে যায়?
সাতদিনের ভিতর শ্বশুর বাড়ি বউ
ছোট্ট আমি আর ভাবে নাতো কেউ!
মাসের ভিতর রান্নাঘর ঠিকানা
কোটা বাঁটা রান্না কিছু নাই জানা!
খেতে বসে সবাই গালমন্দ করে
খসম ঘরে নিয়ে মারধর করে!
এ কোন জীবন আমায় দিলো ভগবান
দেবর ননদ শ্বাশুড়ি চালায় জবান,
সোয়ামিকে আদর তা ও নাই জানা
ভোর বেলা পূজা ঘর যেতে মানা!
আদর সোহাগ রাতে হলো কি না হলো
যতো শীত হোক প্রাতঃ স্নান আলবাত করো!
তারপর হেঁশেলে যতো কাজ করো!
এটো বাসন থেকে পাতিল মাজা
এযেন নারীর বিয়ের সাজা !
দু’বছর কেন সন্তান নাই কোলে
দ্বিতীয় বিয়ের জন্য কানাঘুষা চলে!
একদিন রাতে বাঝাবন্ধ্যা বলে বেদম প্রহার
দু’দিন বন্ধ বধূ নামক শেফালির আহার !
বরযাত্রী গেলো নতুন বউ আনতে
অভাগা শেফালী পালালো সে রাতে!
লঞ্চ প্লাটফর্মে শেফালীর মিললো পুরুষ একজন
শেফালীর মনে হলো আল্লাহ মিলালো সাক্ষাৎ ভগবান!
শেফালির অশান্ত বুকে ফিরে এলো প্রাণ!
শহরের হোটেলে খাওয়ালো অনেক
তিনদিন অভুক্ত শেফালী শক্তি ফিরে পেলো ক্ষণেক!
রাতে থাকলো দুজন এক মাসীর বাসায়।
পতিতালয়ের সর্দারনী মাসি, বিক্রি করে ‘ভগবান বন্ধু’ গেলো পালায়!



