কলমে ঃ দেবিকা রানী হালদার।
তারিখ ঃ ১৮.০১.২০২৪
আমি নারী, বৃক্ষ গিরি নদী প্রকৃতির অপর রূপ!
দুর্গম পথ পেরোতে আমার সানিধ্যে পাবে সুখ!
প্রকৃতির হাত ছানিতে নারী দু বাহু বাড়িয়ে ডাকে
ভয় ভীতি ডড়হীন ভাবে দেয় অনুপ্রেরণা পেতে বুক!
তোমার নির্জন শয়ন কক্ষে আমি প্রহরী
বাতায়ন ভেদ করে আসা চাদের জোসনায় তোমায় নিয়ে ভাসি!
বৃক্ষরাজির আমি বৃক্ষদেবী কচিপাতায় হাটি
থাকি যতো দূরে রাত্রি দ্বিপ্রহরে, শঙ্খচিল হয়ে তোমার কাছে আসি!
পাহাড়ের গুহায় এক যুগে দু’জনে করেছি বাস
আজ পুরুষের শাসনে পিষ্ঠ নারী, পায়ে মাড়ানো দুর্বা ঘাস!
নৃশংসতা, লোভ, ক্ষুধা, বিত্তবৈভবের থাবা
আজ গুহা নয়, বহুতল অট্টালিকা শীততাপ নিয়ন্ত্রনে তোমার আমার বাস!
মেঘ ছুঁই ছুঁই উচ্চতার দালানে বসে দেখি
পেঁজা পেঁজা মেঘের স্রোত, চিল শকুন উড়ে,
খেজুরের রস, কেটে গাছের গলা, দেখি না চোখে
পাকা ডউয়া, চালতা, করমোচা, পুকুরে স্নান ভুলেছি তাই
হৃদয় টা খায় কুরে!
তপ্ত রোদে পোড়া মাটিতে বৃষ্টি ভেজা সোঁদা গন্ধ
শীলা বৃষ্টিতে ভিজে শীল কুড়ানো হয় না আর,
এতো উপরে বসবাস দেখিনা ফিঙে শালিক দোয়েল চড়ুই
একাকিত্বে কখনও কেঁদে কেটে হই জারজার!
একোন আধুনিকতার ছোয়া, ভালো ছিলো নাকি আদিম যুগের গুহা
তুমি ব্যস্ত, অতিব্যস্ত আগের মতো ওষ্ঠ ছুয়ে বলোনা ভালোবাসি!
নারী অশ্বত্থবৃক্ষ , তবু ও মানুষ রূপি শিয়াল শকুনের ঝাঁক ছিঁড়ে খায়
নারী আর এক প্রকৃতি বলে তুমি আমি আগের মতো করি না হাসাহাসি !
তাহলে প্রকৃতি কি আজ মৃত্যু নারী সমতুল্য
আমাজনের বৃক্ষরাজি কেটে করছে শেষ,
নারী আর “বিশ্ব ফুসফুস আমাজন” কিছুই চায়নি
চেয়েছি আমরা একটু ভালোবাসা, বিনিময়ে মিলছে “ধর্ষণ আর কর্তন” – করেছো বেশ !



