তাড়াইলে সুদি মহাজনদের রমরমা ব্যবসা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান সাধারণ মানুষ

0
53

রুহুল আমিন, তাড়াইল-কিশোরগঞ্জ:

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন  মহাজনী সুদে জড়িয়ে নিঃস্ব হয়ে ভিটেমাটি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে অন্যত্র। সুদখোরদের নির্মম নির্যাতনে মানুষ এখন পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছে। এটা এখন এ উপজেলায় সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাজনের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ এখন সব হারিয়ে নিঃস্ব। অবস্থাটা এমন, যেন সব কিছুই গ্রামীন মহাজনদের সুদের কারবারিদের হাতে জিম্মি। সুবিচার না পাওয়া অসহায় মানুষ গুলো এখন আর বিচার চায় না।

বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারী) উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকজন সুদের দায়ে সব হারানো নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনুরোধে জানিয়ে বলেন, জীবিকার তাগিদে তারা অনেক মহাজনদের কাছ থেকে সুদে টাকা নেন। এক বছরে মহাজনদের নিকট থেকে সুদে নেয়া টাকার ৩-৪ গুন টাকা ফেরত দিলেও টাকা পরিশোধ হয়নি বলে জানান। বর্তমানে সুদে কারবারিরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অত্যাচার নির্যাতন করছে।

উপজেলার রাউতি,তালজাঙ্গা সদর ইউনিয়নের কয়েকজন ভুক্তভোগী স্থানীয় মহাজন থেকে নেয়া সুদের টাকা কয়েকগুন ফেরত দেয়ার পরেও চাপের কারনে বাড়িঘর থেকে পালিয়ে নেতাকর্মীদের নিকট ধর্ণা দিচ্ছেন মিমাংসা করে দেয়ার জন্য।

গ্রামীন মহাজনেরা প্রবাবশালী হওয়ায় তাদের কিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায়না সাধারণ জনগন ও ভূক্তভোগীরা। সুদের ব্যবসা যারা করে তারা ক্ষমতাশালী লোকজনের ছত্রছায়ায় চলে বিধায় তাদের কেউ কিছু বলে না, যে সুদে টাকা নেয় তারা দুর্বল হওয়ায় অত্যাচারের কোনো সীমা থাকে না। এদের ভয়াবহ অত্যাচার দিন দিন বেড়েই চলছে। অনেকেই তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন আপনি আজ নিউজ করলে কাল আমার বাড়িতে হামলা করবে তখন আমি কি করবো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার সদর বাজারের এক মুদি ব্যবসায়ী জানান, আমার এলাকার জনৈক এক সুদি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা সুদে নেন। সেই বাবদ জমি দোকান বিক্রি করে মহাজনকে ৮ লাখ টাকা দিয়ে পথে বসে যাওয়ার পরও সে আরও ৪ লাখ টাকা দাবি করে। এর পর তিনি অন্যের দোকানে কাজ করে তা পরিশোধ করেন। আরেক ভুক্তভোগী জানান, এর আগে সুদে কারবারিদের অত্যাচারে বহুলোক এলাকা ছেড়ে ঢাকায় বিভিন্ন রকম কাজ করে জিবিকা নির্বাহ করছে। প্রশাসনের লোকজনের সাথে ঘনিষ্ঠতা থাকায় স্থানীয় সুদখোরদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলে না

এ ব্যাপারে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শামসুল আলম বলেন, বর্তমান পেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করবে। এছাড়া সরকারী অনুমোদন ছাড়া কেউ অবৈধ ভাবে অর্থলগ্নি ব্যবসা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here