রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২৬

একজন মায়ের কান্না

আপডেট:

 

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তাং ঃ ২৩.০২.২০২৪

 

বিজ্ঞাপন

ঘরে ঘরে মায়ের কান্না! অবহেলিত মা, বৌয়ের নির্যাতন, নিগ্রহের শিকার, অবহেলা অযত্নে শয্যা নিয়েছে সহস্র। এমন একজন মা গত রাতে Whatsup এ কথা বললেন তার বেটার বৌ ছেলের সামনেই তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন! তিনি ছেলের উপরেে একা একটা ফ্ল্যাট নিয়ে থাকেন। হার্টের রোগী। আমি ছাদে গেলে তার বেটার বৌর সাথে আলাপ হয় মাত্র ৬ ফুট দূরত্ন। কখন ও তুলসি পাতা চেয়ে নেন তার বাচ্চার জন্য। তাই পরিচয় সূত্রে তার শ্বাশুড়ি কে আমার পারিবারিক ডাক্তারের কাছে পাঠাতে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তিনি ডাক্তার দেখিয়ে আমাকে প্রেসক্রিপশন পাঠিয়েছেন, হার্ট efficiency দারুন কম।একবার Attack হয়েছেন দ্বিতীয় বার হলে হয়তো শেষ। একাকীত্ব জীবন, ছেলে, ছেলের বৌর নির্যাতন অবহেলা এর অন্যতম কারন।

 

ভদ্রমহিলা গতরাত একটায় Whatsup এ কাঁদলেন খানিক, বললেন জীবন ইতিহাস, ২৮ বছরে বিধবা, ২২ বছর একাকিত্ব জীবন। দুই ছেলেকে অফিসার করেছেন, সব বাবা-মা সন্তান কে অফিসার করেন মানুষ করেন না। তিনি ও তাই করেছেন। দুই ছেলের মুখ চেয়ে বিয়ে করেন নাই। জলাঞ্জলি দিয়েছেন পুরা যৌবন কাল, ছিকায় তুলে রেখেছেন সেক্স সুখ বিলাসিতা। শিক্ষকতা করেছেন, দেবর ভাসুর দের সাথে যুদ্ধ করেছেন অংশ নিয়ে। আজ একা থাকেন কিন্তু নিচে নেমে আসতে হয় ভোরে ছেলে বৌকে আয়ার কাজ করে দিতে এবং আগত রাত ১২ টা পর্যন্ত দুই পৌত্র লালনপালন করেন এবং ছুটি মেলে অথচ হার্টের রোগী রাত ১০ টায় বেডে যাওয়া বাধ্যতামূলক। কোন ছেলে তাকে একটা পয়সা দেয় না। নিজ স্বামীর ভাতায় বাসা ভাড়া ডাক্তার ঔষধ পথ্য শাড়ী ব্লাউজ। মাঝে আয়ার কাজ টা ফাও! গত পরশু তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছে কোন ত্রুটির জন্য। ৬ষ্ঠ তলায় একাকীত্ব জীবন। আমি ছয় ফিট দূরত্ব বিল্ডিং এর চার তলায় থাকি। মনটা ভারি হয়ে গেলো শুনে।

 

ভোর বেলা আযান সময় বিদ্যুৎ যাওয়ায় অন্ধকারে তার শরীরে ভীতি ভর করায় নিচে ছেলেকে ফোন করেন, ছেলে, ছেলে বৌ রেগে অস্হির এবং বকাঝকা, কেন তাকে ঘুম ভাঙানো হলো। একবার ও ছেলে জিজ্ঞেস করে নাই, মা তুমি কি অসুস্থ, তোমার কি খারাপ লাগছে, আমার কি আসতে হবে —– মায়ের এ অপরাধে মায়ের চাকুরী গেলো। ছেলের বাসায় যাওয়া বন্ধ অথচ নেতন বিহীন আয়ার কাজে তাকে যেতে হোত, মহিলা কেঁদে বললেন, ওদের পর মায়া নাই কিন্ত পোতা দুটোকে ভুলতে পারি না ! হায়রে মায়া হায়রে ভালোবাসা হায়রে মায়ের আর্তি, এর কোন শেষ আছে কিনা আমার জানা নাই।

 

নারী শত্রু নারী, যিনি সতীন হয়ে আসেন তিনি নারী, যিনি এই অভাগা মাকে তাড়িয়েছেন তিনি ছেলের বৌ, নারী! ছেলের বৌ বলেছে,”হয় আমি থাকবো না হলে তুই তোর মাকে নিয়ে থাকবি”! দ্বিতীয় ছেলের বৌ নাকি ততোধিক। তাদের কাছে ও থাকা অসম্ভব।

সংখ্যা লঘুর অত্যারের সহযোগী সংখ্যা লঘূ। গতকাল ইচ্ছা কৃত মিঃ সুধীর বাবুর একটা আর্টিকেল একজন নারী ও সংখ্যা লঘূ বিদ্বেষী আইনকানুন সাহিত্য বর্বরোচিত নীতি লঙ্গন করে দারুন জনহিতকর একটা পোস্ট সাহিত্য গ্রুপে ঢেকে দিছেন, তাকে সহযোগিতা যিনি করেছেন তিনিও একজন সংখ্যা লঘূ, সূদুর কলকাতা বসে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন সংখ্যা লঘূ সুধীর বাবুর বিরুদ্ধে। নাম ধাম উহ্য রাখলাম, প্রয়োজন না হলে আর উদাম করবো না।

 

ভন্ড মাতৃভক্তি, ভন্ড ধর্মনিরপেক্ষতা, ভন্ড মুক্তমনা সাহিত্য প্রেমী, ভন্ড ধার্মিক থেকে কবে এদেশ মুক্তি পাবে? কবে মায়ের চোখের জল ঝরবে না! কবে মানুষ নামের মুখোশের আড়ালের জীবগুলো মানুষ হবে নাকি এটা ভগবানের যোগবিয়োগের ভুল ভন্ডই খাঁটি, খাঁটি র স্হান মাটি (কবর)?

 

ক্ষমা প্রার্থী এই মায়ের কাছে, ক্ষমা প্রার্থী “সংখ্যা লঘূ সুধীর বাবুর” কাছে, হিন্দু থেকে মুসলমান হতে লাগে মাত্র এক মিনিট কিন্তু মানুষ হতে লাগে সারাটা জীবন, কেউ কেউ সারাজীবনে ও মানুষ হয় না! কতটুকু সাহায্যের হাত বাড়ানো সম্ভব, ক্ষমা চাওয়া ছাড়া গত্যান্তর নাই। ক্ষমা চাই নিজ বিবেকের কাছে!

 

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত