লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তাং ঃ ২৯.০৩.২০২৪
সৃষ্টি কর্তা বিনা সূতার যে আকর্ষণ দিয়েছেন তার নাম “ভালোবাসা”। এই ভালোবাসার চুম্বকীয় আবেশে কেউ জার্মানির বিলাস জীবন ছেড়ে বাংলাদেশের কুড়ে ঘরে এসে বাস করে জীবন কাটায়, কেউ ধর্ম ত্যাগ, মা-বাবা ত্যাগ, সিংহাসন ত্যাগ (কিং ক্যাপেচুয়া ভিক্ষারিনীর ভালোবাসায় সিংহাসন ছেড়েছিলেন), যুদ্ধ বিগ্রহ হয়, টোরাজেন যুদ্ধের কথা সবাই জানেন, ট্রয় নগরী পুড়েছিলো ভালোবাসার জন্য, পড়েন সেই “হেলেন অব ট্রয় ” !
একজন পুরুষ ছাত্র জীবন থেকে লেগে যায় কিভাবে বাবার সংসার টা তুলবে, ভাইবোন মানুষ করবে তারপর চাকুরী চুরি-ডাকাতি সব কিছু করে পরিবারের প্রতি ভালোবাসায়, জীবন শেষে ঐ ভাই-বোন সব ই অস্বীকার করে,
সেই ভাইরা জমি রেকর্ড করে নেয় এমন পাশের বাড়ী ঘটছে কিন্তু অন্য জন ও তা থেকে শিক্ষা নিচ্ছে না বরং সে ও একই কাজ করছে শুধু ভালোবাসার টানে! শেষ জীবনে এই ভালোবাসার কোন মূল্য কেই দেয় না, কি করেছিলেন তার ও হিসাবের খাতা থাকে না এখানে ভগবানে আছে যোগবিয়োগে ভুল। ভালোবাসা এক তরফা! যে সন্তানের জন্য বাবা জীবন দিতে পারেন সে সন্তান হয়তো “বাবা” ডাকেন না একদিন, বৃদ্ধাশ্রম পাঠায়, রেললাইন ফেলে আসে তবুও বদদোয়া করেন না!
প্রিয় পাঠক, আমার বিষয় ভারতের অন্যতম ধনী ব্যক্তি
” রতন টাটা ” যিনি কাউকে ভালোবেসেছিলেন, ভালোবাসায় প্রত্যাখ্যাত হয়ে আর বিয়ে করেন নাই, আজ একা একদম একা! নাই ছেলে-মেয়ে সহধর্মিণী
কোন উত্তরসূরী! তিনি প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি রুপির মালিক! যে মেয়েটা তার ভালোবাসা পদদলিত করে
চলে গেছিলেন তিনি বলিউডের একজন স্বল্প খ্যাত নায়িকা যাকে আপনারা অনেকে ই দেখেন নাই, আমি তার সিনেমা দেখেছি। তার নাম “সিমি গাড়োয়ান”
“সিমি” ভালোবাসতেন বাঙালি ক্রিকেট খেলোয়ার “মনসুর আলী খান” কে ভালোবেসে ছিলেন , মজার কথা তিনি সিমিকে বিয়ে না করে বিয়ে করলেন আর এক নায়িকা “শর্মিলা ঠাকুর” কে। এতক্ষণে নিশ্চয় চিনতে পারছেন ক্রিকেটার মনসুর আলী বলিউড নায়ক সাইফ আলী খানের বাবা” শর্মিলার ঠাকুরের স্বামী, নায়িকা অমৃতা সিং ও কারিনা কাপুরের শ্বশুর! যদিও অমৃতা সিং আর সাইফের বিয়ে টেকে নাই। দুই সন্তান তাদের।
ভালোবাসা সব চেয়ে সুখের সবচেয়ে দূঃখের। ভালোবাসা কাঁদায় অনিদ্রা এনে দেয় ডিপ্রেশনে নিয়ে যায় পাগল বানায় আত্মহত্যা করায় মৃত্যু এনে দেয় তবু ভালোবাসায় মানুষ পড়ে এবং মরে। মরেছেন দেবদাস, মজনু সহ সহস্র লক্ষ আমি আপনি সে —-
রেল স্টেশন লঞ্চঘাট পার্কে পাগল পাগলি বেড়েছে, গাজা ভাং আফিম মদ কতজন ধরেছে! কত সন্মানী লোক মদের বোতল নিয়ে রোডে নেমেছে আর গেয়েছেন, “হয় যদি বদনাম হোক আরো,আমি তো আজ আর নই কারো —–
রতন টাটা বেঁচে গেছেন। তার পিএস জন দশ নারী, অফিসে লক্ষ নারী, দেশ-বিদেশে শত নারীর সাথে ব্যবসা বানিজ্য কিন্তু বাসায় ফিরলে ঘরে কোন নারী তাকে বলে না ” তুমি পিএস নিয়ে সিঙ্গাপুর কেন গেলে”
অথচ ফাইল বইতে আর সাহায্য করতে আমি ক্ষুদ্র ব্যক্তির ও গ্রাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার মেয়ে পিএস ছিলো।
রতন টাটার ভালোবাসার সেই নারী ছাড়া আর কারো পর আসক্তি নাই তবু ঘরে নারী থাকলে এ মান অভিমান অবিশ্বাস ফেস করতে হতো!
রতন টাটা, সিমি ও মনসুর আলী।



