লেখক ঃ দেবিকা রানী হালদার।
তাং ঃ ১৩.০৪.২০২৪
প্রায় সাত হাজার বছরের প্রোথিত বাঙালি জাতির শিকড় মাটির অনেক গভীরে হলে-ও বাংলাদেশ বড় বেশী ছোট একটা দেশ। বাকী পশ্চিম বাংলা আসাম ত্রিপুরা যারা বাংলা ভাষাভাষী তার অন্য ভাষার লোকদের অঙ্গ রাজ্য বাংলাদেশের মতো মুক্ত বিহঙ্গ না!
বিশ্বে প্রায় তিরিশ কোটি মানুষ বাংলায় কথা বলে। সবচেয়ে বেশী লোকের ভাষা সারা বিশ্বে “ম্যান্ডারিন। বাংলা কিন্তু বিশ্বের ৬ষ্ঠ তম ভাষা তথাপিও বাংলা পঞ্জিকা ছিলো না,ছিলো না বাংলা সাল।
বাংলা বিহার উড়িষ্যা স্বাধীন ছিলো কিন্তু নবাব সিরাজুদ্দৌলা বাঙালি ছিলেন না! বাংলার একমাত্র স্বাধীন বাঙালি শাসক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তান স্বাধীন ছিলো কিন্তু বাঙালি স্বাধীন ছিলো না। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যে বাঙালি নামধারী সামরিক জান্তা দেশ শাসন করেছেন ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল ৩০ শে মে পর্যন্ত তার পারিবারিক ভাষা ছিলো উর্দু এবং নিজেও ভালো বাংলা বলতে পারতেন না! এজন্য তার বাঙালি জাতীয়তাবাদ পছন্দ ছিলো না, বাঙালিরা ও তাক সরাতে ২১ টা ক্যু করেছে তার বিরুদ্ধে ২২ তম ক্যুতে বিদায়!
বাংলা সাল সৃষ্টি হয়েছে ১৫৫৬ খৃষ্টাব্দে মোগল সম্রাট আকবর সিংহাসন আরহনের পর। বৃটিশ সালের সাথে বাঙালিরা খাজনা দিতে পারতো না কারন এই সালের সাথে কৃষিনির্ভর চাষীদের জমির ফসল উঠতো না ঘরে, অহেতুক পাইক পেয়দার নির্যাতনের শিকার হতো, বাদশাহর কানে গেলে বিচক্ষণ আকবর ফসলি সাল পঞ্জিকা তৈরি করতে বললেন এবং সেই পঞ্জিকা অনুসারে ট্যাক্স আদায় নির্দেশ দিলেন। সেই থেকে ফসলি সাল হয়ে গেলো বাংলা সাল এবং ১ লা বৈশাখ হলো নববর্ষ।
এমনি নেপাল ভিয়েতনাম সহ বেশ কয়েকটা দেশে ১ লা বৈশাখ নব বর্ষ।
ভারতের ডঃ মেঘনাদ সাহা, উড়িষ্যার ইতিহাসবিদ কাশী প্রসাদ, বাংলার অমর্ত্য সেন অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন
এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। কিছু মোগল বিদ্বেষী বাংলা সাল হিন্দু রাজা শশাঙ্ক বাবু জনক বলে প্রচার করে যা ডাহা মিথ্যে! প্রতিহিংসা পরায়নতা মানুষের ভিতর একটা ভাইরাস। পবিত্র কুরআন বাংলা অনুবাদ করেছিলেন গিরিশচন্দ্র সেন। তখন বহু ভাষাবিদ ছিলেন অনেকে। ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ থেকে গিরিশচন্দ্র তাদের বাংলা ছিলো মাদার ট্যাং, ইংরেজি ছিলো ফাদার ট্যাং আরবী ছিলো দাদার ট্যাং সাংস্কৃতি ১০/১২ ভাষার পন্ডিত ছিলেন তারা, সবাই ছিলেন মুক্ত মনা, ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ২৪ টা ভাষার পন্ডিত ছিলেন! ধর্ম বৈষম্য মাথায় ছিলো না তাদের এখন কিছু প্রতিহিংসা পরায়ন কাঠ মোল্লা একটা মুসলমান নাম বলে থাকে যিনি কুরআন তর্জমা করেছিলেন এবং গিরিশ তা চুরি করে ছাপায় দিয়ে সামনে এসে যান এমন বলেন! আসলে তখনকার ভাষাবিদ রা এতই ভাষা দখল ছিলো তারা কোন টা হিন্দুর কোনটা মুসলমানের এ পার্থক্য করেন নাই! বৃহৎ মনের অধিকারী সেই সব পণ্ডিতদের।
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সবচেয়ে বড় ভাষাবিদ ছিলেন। গিরিশচন্দ্র, ডঃ সুনীল কুমার, ডঃ মুহম্মদ এনামুল হক, সুকুমার সেন, মুনির চৌঃ, মুহম্মদ আঃ হাই সবাই ছিলেন বহু ভাষা পন্ডিত। গিরিশচন্দ্র কে ভাই মৌলভী গিরিশচন্দ্র বলা হতো কুরআন তর্জমা করার পর!
বাংলা সাল শুরু হয় মোগল সম্রাট আকবরের মস্তিষ্ক থেকে।



